মেইন ম্যেনু

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় ৫০ লাখ ডলার দেবে অস্ট্রেলিয়া

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাড়তে থাকা সহিংসতায় সৃষ্ট মানবিক সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া এই সংকট মোকাবেলায় ৫০ লাখ ইউএস ডলার (প্রায় ৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে তারা। সহায়তার এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

শনিবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এই সাহায্য দেবে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া মিয়ানমারে অবস্থান করা আক্রান্তদের কাছে পৌঁছাতে রেড ক্রসের সাথে কাজ করবে তারা। এজন্য বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় এবং সহায়তা কর্মীদের অবাধে প্রবেশের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

এই সংঘাতের কারণে বাংলাদেশকে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে বলেও ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার মোট সাহায্যের পরিমাণ হবে ৫ কোটি ইউএস ডলারেরও বেশি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।






মন্তব্য চালু নেই