মেইন ম্যেনু

লজ্জা এড়াল ভারত, সিরিজ বাংলাদেশের

আশা জাগিয়ে হলো না। কিন্তু যেটা পেয়েছে সেটা কম কিসের! হোয়াইট-ওয়াশ কিংবা বাংলাওয়াশ যেটাই বলি না কেন, সেটা হয়নি। কিন্তু সিরিজ নিয়ে আর সফরকারীদের দেশে যেতে দেয়নি বাংলাদশে। ভারতের বিপক্ষে চতুর্থবারের মত দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেললো বাংলাদেশ। আগের তিনবারই সিরিজ জিতে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরে যায় ভারত। এবারই প্রথম ট্রফি জয়ের আনন্দে মাতল টাইগাররা। শেষটায় ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করলে উৎসবের ক্যানভাসটি আরো উজ্জ্বল হতে পারতো। কিন্তু সেটা হয়নি। এতে আক্ষেপ থাকার কথা। কিন্তু এই আক্ষেপই নতুনভাবে জেগে উঠার স্পৃহা জোগাবে। সামনেই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। আর ওই সিরিজে প্রত্যাশামাফিক ফলাফল করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের।

ঘরের মাঠে টানা দশ জয়ের পর হারের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত টানা দুই হারের পর পেল সান্তনার জয়। বুধবার শেরে বাংলায় টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩১৭ রান করে ভারত। জবাবে ১৮ বল আগে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৭৭ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে শেষ করলো দুইবারের বিশ্বচ্যম্পিয়নরা।

মিরপুরের আকাশ সকাল থেকেই ছিল মেঘলা। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল শতভাগ। সেই বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মাশরাফি বিন মর্তুজা! না হলে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টসে জিতেও ফিল্ডিং নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

ইনিংসের শুরু থেকেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শেখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। কিন্তু তাদের জুটি দীর্ঘায়িত হতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। রোহিত শর্মা টানা তৃতীয়বারের মত মুস্তাফিজে বধ। ২৯ রান করে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের তালুবন্দি হন রোহিত শর্মা। দ্বিতীয় উইকেটে শেখর ধাওয়ান ও কোহলি ৭৫ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ২৫ রানে কোহলিকে বোল্ড করেন সাকিব। ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে দ্বিতীয় ম্যাচের মত চারে ব্যাটিংয়ে আসেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রথম দুই ম্যাচে সফলতা না পেলেও শেষ ম্যাচে দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন ধোনি। অবশ্য ধোনির আগেই শেখর ধাওয়ান (৭৫) ও আম্বাতি রাইডু (৪৪) সাজঘরের পথ ধরেন।

ধোনি, ধাওয়ান ও রাইডুর উইকেট তুলে নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৩ উইকেট পেলেও ১০ ওভারে নড়াইল এক্সপ্রেস দিয়েছেন ৭৬ রান। একই অবস্থা রুবেল হোসেনের ৯ ওভারে খরচ করেছেন ৭৫ রান। তাসকিনের পরিবর্তে খেলতে নামা সানী ৬ ওভারে দিয়েছেন ৪২ রান। রুবেল ও সানী দুজনই ছিলেন উইকেট শূন্য।

তবে ভারতের রানের চাকায় লাগাম টেনে ধরেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রায়নার ২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ে তিনশ’ রান ঠিকই অতিক্রম করে ভারত। আর এই সফরে প্রথমবারের মত খেলতে নামা বিনি ১১ বলে করেন ১৭ রান। ৫ বলে ১০ রান করে বিনির সঙ্গে অপরাজিত থাকেন অক্ষর পাটেল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ২৯৩। সেখানে ৩১৯ রান একটু বড়ই বটে। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে পুরো ৫০ ওভার খেললেও কাছাকাছি যাওয়ার কথা টাইগারদের। কিন্তু বড় লক্ষ্য পেয়েই নিজেদের চিরচেনা রূপ থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। শুরু থেকেই চাপ নিয়ে খেলতে থাকে ব্যাটসম্যানরা।

উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায় ৮ রানে। তামিম ৫ রানে আউট হন কুলকার্নির বলে। তবে দ্বিতীয় উইকেটে লিটনকে সঙ্গে নিয়ে ঝড় তুলেন সৌম্য । ৩৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪০ রান করেন। আর তাদের জুটিতে আসে ৫২ রান। দলীয় ৬২ রানে অযথা শট খেলতে গিয়ে কুলকার্নির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সৌম্য। তার বিদায়ের পরও প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৫। যা ভারতের থেকে ৪ রান বেশি।

তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিম ও লিটন ৫০ রানের জুটি গড়ে তুলেন। কিন্তু দলীয় ১১২ ও ১১৮ রানে এই দুই ব্যাটসম্যানও নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসেন। মুশফিক (২৪) রায়নার বলে ক্যাচ দেন ধোনির হাতে। আর লিটন (৩৪) অক্ষর পাটেলের বলে অলসভাবে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। তাদের বিদায়ের পর সাকিব আল হাসান দ্রুত ২০ রান তুলে সাজঘরের পথ ধরেন রায়নার বলে। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ উঠিয়ে দেন সাকিব।

ষষ্ঠ উইকেটে সাকিব ও নাসির দ্রুত ৪৯ রান তুলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। কিন্তু মারকুটে সাব্বিরও সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুসরণ করে উইকেট বিলিয়ে আসেন। সাব্বিরের ব্যাটিংয়ে জয়ের সম্ভবনা তৈরি হলেও সাব্বির স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন স্টুয়ার্ট বিনির বলে বোল্ড হয়ে। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৩ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

সাব্বির আউট হওয়ার পর পরই নিভে যায় জয়ের প্রদ্বীপ। নাসিরের ৩২ রানে শেষদিকে শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। আরাফাত সানী (১৪), মুস্তাফিজুর রহমান (৯), রুবেল হোসেন (২) রান করেন।

ভারতের সেরা বোলার সুরেশ রায়না। ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া অশ্বিন, কুলকার্নি নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট পকেটে পুরেন আম্বাতি রাইডু ও স্টুয়ার্ট বিনি।