মেইন ম্যেনু

লঞ্চে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৩

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চের কেবিনে মিনা বেগম নামে (২৫) এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

পারাবত-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার স্টাফ কেবিনে মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। মিনা বেগম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- মিনা বেগমের স্বামী শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাইজার গ্রামের হালিম পাটোয়ারীর ছেলে আনিস পাটোয়ারী (১৮), আনিসের তার চাচাত ভাই কালাম পাটোয়ারী (২৫) ও তার সহযোগী নওগাঁর পাকাপুর গ্রামের সাঈদ হাসানের ছেলে মো. তুষার (২০)।

বরিশাল নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, `স্ত্রী মিনা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পারাবত-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিন ভাড়া নেন আনিস পাটোয়ারী। রাত ২টার স্ত্রী মিনাকে রেখে কেবিনের বাইরে বের হন আনিস। এ সময় ওই কেবিনে অন্য দুই পুরুষ (কালাম পাটোয়ারী ও মো. তুষার) প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর কেবিন থেকে চিৎকারের শব্দ পেয়ে যাত্রী ও লঞ্চের আনসার সদস্যরা গিয়ে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ দেখেতে পান।’

পরে যাত্রীরা মিনা বেগমের স্বামী আনিস পাটোয়ারীসহ তার দুই সহযোগী কালাম পাটোয়ারী ও মো. তুষারকে আটক করে আনসার বাহিনীর জিন্মায় রাখে। মঙ্গলবার ভোরে লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছালে আটককৃতদের কোতোয়ালি থানায় সোপার্দ করা হয়।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘গত রমজানে মোবাইল ফোনে মিনা বেগমের সঙ্গে আনিসের পরিচয় হয়। এরপর ওই মাসেই তারা বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক দিন পর আনিস জানতে পারেন- তার স্ত্রী পূর্বে যৌনকর্মী ছিল। এরপরই চাচাতো ভাই কালাম ও তার বন্ধু তুষারকে মিনা হত্যার জন্য ৩০ হাজার টাকা দেন আনিস। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী কুয়াকাটায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন মিনা ও আনিস। এ সময় একই লঞ্চে ওঠেন কালাম পাটোয়ারী ও মো. তুষার।’

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ পাতালে পাঠানো হয়েছে।