মেইন ম্যেনু

লন্ডনের কবরখানায় একই সঙ্গে বাস করছেন মার্কস ও ভ্যাম্পায়ার?

কবরখানায় ভূত বা অন্যান্য ছায়াময়রা থাকবেই, একথা নতুন করে বলার কিছুই নেই। কিন্তু সেই কবরখানার অন্যতম বাসিন্দা যদি হয়ে থাকেন কার্ল মার্কস, তাহলে ভূত-ভ্যাম্পায়ারদেরও সমঝে চলার কথা। বৈজ্ঞানিক সমাজবাদের প্রবক্তা এবং ভূত-ভগবান প্রভৃতি ভাববাদের অন্যতম প্রধান বিরোধী মার্কসের সমাধির উপরেই কি আড্ডা জমিয়েছে ভ্যাম্পায়াররা?

লন্ডেনের হাইগেট সেমেটারিই কার্ল মার্কসের শেষ আশ্রয়স্থল। আর সেখানেই নাকি আড্ডা গেড়েছে ভূত আর ভ্যাম্পায়ারের দঙ্গল। ১৭৭ বছরের পুরনো এই গোরস্থানকে ঘিরে কম কাহিনি পল্লবিত নয়। সম্প্রতি সেই সব কাহিনি আর গুজবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এটিও। ভিক্টোরিয়ান লন্ডনের স্মৃতিবাহী এই কবরখানায় শেষ শয্যায় শায়িত রয়েছেন বিংশ শতকের বেশ কিছু ধনী ও নামজাদা ব্যক্তি। চমৎকার সব সমাধিভাস্কর্যে পূর্ণ এই সেমেটারি পর্যটকদের কাছে একটি বড় আকর্ষণ। ১৯৬০-এর দশক থেকে এই কবরখানাকে ঘিরে গুজব রটতে শুরু করে। সেই সময়ে অনেকেই বলাবলি করতে থাকেন, রাতের আঁধারে কিছু ছায়ামূর্তিকে নাকি এইখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাঁরা নাকি এখানে কোনও কালোজাদুর চর্চা করতেন। ভূত-সন্ধানী এবং প্যারানর্মাল-উৎসাহীরা প্রায় রাত্রেই হানা দিতে শুরু করেন হাইগেটের কবরখানায়। তাঁরা অনেকেই এমন সব কাহিনি বাজারে ছাড়তে শুরু করেন, যা কেবলমাত্র হরর উপন্যাসেই সম্ভব। অনেকে বলতে শুরু করেন সেখানে রক্তচক্ষু এক দানব পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে।

সেই শুরু, তার পর থেকে ক্রমাগত সংযোজিত হয়েছে কাহিনি। সম্প্রতি সেখানে নাকি এক নারীকে দেখা গিয়েছে, যার হালচাল অনেকটাই মিলে যায় সাহিত্যে বর্ণিত ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে। ‘ম্যাড উওম্যান অফ হাইগেট’ নাম দিয়ে মিডিয়াতে শুরু হয়েছে জমজমাট সব কিস‌্‌সার বিস্তার। ভ্যাম্পায়ারকে খুঁজে পেতে বা চাক্ষুষ করতে পাবলিক ভিড় করছে বিপুল পরিমাণে। অনেকে নাকি সেই ‘উন্মাদিনী’-কে সমাধিফলকের ফাঁকে ফাঁকে ছুটে যেতেও দেখেছেন।

১৯৮০-র দশকের পর থেকে এই সমাধিস্থলের সৌন্দর্যায়ন ঘটে। পর্যটক আকর্ষণের জন্যই এমনটা করা হয়। কিন্তু প্যারানর্মালবাদীদের একাংশের বক্তব্য— এতে নাকি ক্ষতিই হয়েছে। সাজানো-গোছানো বাগিচায় কি আর তেনারা দেখা দেন?