মেইন ম্যেনু

লাখো মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছায়, ট্রেন চালকদের ঈদ কেমন যায়?

ঈদে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। আর এদের বড় একটা অংশ গ্রামের পানে ছুটেছেন ট্রেনে চড়েই। কিন্তু অবিরাম হাজারো যাত্রীদের নিয়ে যারা ছুটে চলেছেন সেই ট্রেনচালকদের ঈদ কেমন হয়? প্রশ্ন জেগেছিল মনে। খোঁজ নিতে কমলাপুর। কথা হলো ট্রেনচালক মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে। প্রায় দুই যুগ ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। অধিকাংশ ঈদেই ছুটি পাননা তিনি। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। ঘরমুখো মানুষকে গন্তব্যে পৌছে দেয়ার কাজটি যথারীতি করে যাচ্ছেন সরকারি এই চাকরিজীবী। সরকারি কর্মকর্তারা যখন টানা নয়দিন ছুটি ভোগ করছেন, আর ট্রেনের এই কর্মকর্তাদের মিললো না একদিনেরও ছুটি। খবর: বাংলামেইল

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগে কমলাপুর রেল স্টেশনে কথা হয় আলাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি পাইনি। আর পরিবারে লোকজনও আমাকে ছাড়াই ঈদ কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। দেশের মাটিতে থেকে পরিবার-পরিজন ছাড়া ঈদ করা অনেক কষ্টের। এরপরেও যখন হাজার হাজার মানুষকে গন্তব্যে পৌছে দিতে পারি, তখন মনটা খুশিতে ভরে যায়।’

শুধু আলাউদ্দিন না, ঈদ কেন্দ্রিক লাখো ঘরমুখো মানুষকে গ্রামের বাড়িতে নিতে ও আনতে কাজ করেন শতাধিক চালক। যারা ঈদের পরেও এই ছুটি ভোগ করতে পারেন না। তবে বেতনের সঙ্গে দেয়া হয় বাড়তি কিছু টাকা।

এই টাকা দিয়ে কি পরিবার-পরিজন নিয়ে আরেকটা ঈদ কেনা যায়? এমন প্রশ্ন রেখে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের চালক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঈদতো আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। আর চাকরির কারণে উৎসবটি থেকে বঞ্চিত। তবে সরকারের এই শর্ত মেনেই আমরা চাকরিতে এসেছি। আমার ট্রেনে চড়ে হাজার হাজার মানুষ বাড়িতে গিয়ে ঈদ করে। তাদের বাহনকারী আমি, এটিও ভাবতে বেশ ভালো লাগে।’

চাকলদের পাশাপাশি ট্রেনের স্টাফ কিংবা ম্যাকানিকদেরও একই অবস্থা। এমন একজন রফিকুল হক। তিনি টানা ৩৩ বছর যাবৎ চাকরি করছেন ট্রেনে। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঈদে ডিউটি না করি, তাহলে ট্রেন চলবে কি করে? তখন লাখ লাখ মানুষ কীভাবে বাড়িতে যাবে। আসলে নৈতিকতা বা দায়িত্ববোধ থেকেই এসময় কাজ করছি। এর মধ্যেও আছে আনন্দ।’