মেইন ম্যেনু

লাদেনের গুঁড়ো হয়ে যাওয়া মাথা জোড়া লাগাতে হয়েছিল!

নাইন ইলেভেনের আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলার দিনটি যেমন কোনো দিনও ভুলবে না বিশ্ববাসী, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ২০১১ সালের ২ মে। ওই দিনটিতেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসবাদীদের গুরু ওসামা বিন লাদেনের খেলা থামিয়ে দিয়েছিল আমেরিকান নেভি সিল। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল আল কায়েদা নেতার দেহ। লাদেনকে যে কতটা নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হলো ঘটনার ৬ বছর পর। সেদিন রাতে গুলিতে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল লাদেনের মাথা। তাই লাশ শনাক্ত করার জন্য ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া দিতে হয়েছিল!

মার্কিন নেভি সিলের সাবেক সদস্য রবার্ট ও’নিলে তার ‘দ্য অপারেটর: ফায়ারিং দ্য শট দ্যাট কিলড্ লাদেন’ বইতে সেই রাতের বিবরণ দিয়েছেন যা হাড়হিম করে দিতে যথেষ্ট। লাদেন-হত্যার জন্য নেভি সিলের বিশেষ দলে ছিলেন রবার্ট। তার দাবি রীতিমতো বিতর্ক তৈরি করেছে। এমনকি ওসামার মৃতদেহের যে ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া যায় সেটা আসলেই ওসামার কিনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

তিনি লিখছেন, “আমরা ৬ জনের দল যখন অ্যাবটাবাদে লাদেনের বাড়িতে ঢুকি, তখন ওসামার ছেলে খালিদকে দেখি একটি একে ৪৭ রাইফেল তাক করে আছে সে। খালিদকে মোটা টাকার টোপ দিয়ে আগেই বশ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। আরবি ভাষায় একজন এজেন্ট বলে, খালিদ এখানে এসো। সিঁড়ির তলা থেকে খালিদ বলে, কী? এরপর ও বের হতেই গুলি চালাই আমরা। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেই আমরা ঘরের তল্লাশি শুরু করে দিই। এক ব্যক্তির কাঁধে বন্দুক ঠেকিয়ে আমরা অ্যাকশন শুরু করি।

তিনি আরো লিখেছেন, “সামনের পর্দা সরাতেই দেখি, লাদেন এক নারীর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে। পরে জেনেছিলাম, ওটা লাদেনের ৪ স্ত্রীর মধ্যে কনিষ্ঠতম। সেকেন্ডের মধ্যে ওই নারীর কাঁধে তাক করে দু বার ট্রিগার টিপি। গুলি লাগে সোজা লাদেনের মাথায়। তারপর আরও একটি গুলি করে ওর মাথা লক্ষ্য করে। মাথা গুঁড়িয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। শনাক্তকরণের জন্য সেই অংশগুলিকে রীতিমতো একজায়গায় এনে জোড়া দিতে হয়েছিল।”