মেইন ম্যেনু

লাপাত্তা শাহাদতের নামে চাঁদাবাজি

শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদৎ বাহিনীর ছয় ‘পেশাদার খুনি’কে আটকের দাবি করেছে র‌্যাব। তবে বাহিনী প্রধান কোথায় সেটা জানে না তারা। লাপাত্তা এই সন্ত্রাসীর নামেই অবশ্য মিরপুরে দেদারসে চাঁদাবাজি চলছে।

শাহাদৎ বাহিনীর নামে কেবল চাঁদাবাজি নয়, টাকার বিনিময়ে খুনও করা হচ্ছে বলেও তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। আর তাদের পেছনে টানা কয়েক মাস ধরে চেষ্টার পরই আটক হয়েছে ছয় জন।

র‌্যাব চারের অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, ‘শাহাদৎ হোসেন কোথায় আছে তা আমরা জানি না। যারা তার নামে চাঁদাবাজি করছে তা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। অচিরেই তার হদিস আমরা বের করতে পারবো বলে আশা করি’।

ব্যবসায়ী এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই ছয় জন আটক হলেও এখনও তৎপর অন্য সদস্যরা। এরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে কাজ করছে। এদের মধ্যে একটি দলের সদস্যরা অন্যদের চেনে না।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি দল ফোনে হুমকি দেয়। আরেকটি দল যায় ঘটনাস্থলে যায়। তারা টাকা তুলে জমা দেয় অন্য একটি দলের কাছে। সেই টাকা নানা হাত ঘুরে ভারত যায় বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকার পরও শাহাদৎ ভারতে পালিয়ে আছে বলেই ধারণা করছে বাহিনীটি।

শাহাদতের নামে চাঁদাবাজির বহু ফোনালাপের রেকর্ড র‌্যাবের কাছে আছে। মিরপুর ১০ নম্বরের বাসিন্দা ঝুট ব্যবসায়ী এবং কারাবন্দি সন্ত্রাসী কিলার আব্বাসের মধ্যে দুই মিনিট ২০ সেকেন্ড কথোপকথনের শেষ বাক্য ছিল, ‘পাঁচ লাখ টাকা দিবি নইলে জান’। এখন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন ওই ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় গত ৪ জুলাই ফারুক আহমেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে রমনা থানায় দুটি ও শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে। মাঝে কিছুদিন চাঁদাবাজির অভিযোগ কম পাওয়া গেলেও সম্প্রতি আবারও বেড়েছে। সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চায়। জানা যায়, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছে ঢাকা থেকে প্রতি মাসে চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকা চলে যায় বিদেশে। চাঁদার টাকায় সেখানে তারা বিলাসী জীবনযাপন করেন।

কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামেও মামলা চালানো ও খরচের জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদা তোলা হয়। পলাতক ও কারাবন্দি সন্ত্রাসীদের কাছে চাঁদার টাকা পৌঁছে দেওয়া একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে রয়েছে।