মেইন ম্যেনু

লামায় রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশছোঁয়া দামে, জিম্মি সাধারণ মানুষ

রমজান মাসে বান্দরবানের লামা বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজির বাজার ব্যবসায়ীদের দখলে। পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে ব্যবসায়ীরা। সরকার বাজারের মূল্য স্থিতিশীল রাখার নানান কথা বললেও বাস্তবে বাজার ঘুরে কোন পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের তদারকি চোখে পড়েনি। মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীদের যাঁতাকলে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে আম জনতার।

লামা বাজারের সাপ্তাহিক হাট শনি ও মঙ্গলবার। বাজারে এই দু’দিনের হাটে স্থানীয় পাহাড়ী-বাঙ্গালী চাষীরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কাঁচা তৈরী তরকারি বাজারে বিক্রি করতে আনে। এক শ্রেণীর কিছু কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে কম দামে সকল সবজি ক্রয় করে তারপর মূল্য নির্ধারণ করে নিজেরা।

বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী ও বাঙ্গালীদের নিকট হতে মরিচ, বেগুন, শসা, বরবটি, পটল, লেবু, করল্লা, সিম, লালশাক, মিষ্টিকুমড়া, কলা, আলু ও নানান সবজিসহ নিত্যপণ্যে কম দামে ক্রয় করে বেশীদামে বিক্রি করে। কষ্টে চাষ করার পর যখন বাজারে এসে উৎপাদিত সবজি বিক্রয় করে তখন তাদের ঘামের দাম পর্যন্ত হয় না বলে জানান কৃষক মাসিংনু মারমা ।

রমজান শুরুর প্রথম দিনেই কাঁচামরিচ, বেগুন ও ধনে পাতাসহ বিভিন্ন সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। কাঁচা বাজারের সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। রমজানে যেসব সবজি বেশি ব্যবহার হয় সেগুলো প্রতি কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা। দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মরিচ ও বেগুনে
বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মেলা।

কয়েক দিন আগে লামা বাজারে এক কেজি মরিচের দাম ছিল মাত্র ৩৫-৪০টাকা কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার পর হতে প্রতি কেজি মরিচের দাম বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। কাচাঁবাজারের বিক্রেতারা নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করে পণ্য বিক্রি করছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা আগে ছিলো ৩৮ টাকা। ইন্ডিয়ান পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৩ টাকা দরে। রমজানে আলুর চাহিদা ব্যপক হারে বেড়ে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম এখন ২৪ টাকা।

সবজিতে চাহিদা থাকায় বিক্রেতারা আগুনের মতো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শসা ৪০ টাকা। কেজি কিন্তু রোজার আগেও শসার দাম ছিলো ১০ টাকা কেজি। ঝাঁঝ নিয়ে কাঁচা মরিচ ও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সবুজ ধনে পাতা প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুদিনা পাতা যেখানে রোজার আগে দাম ছিলো ২০০ টাকা কেজি সেখানে এখন তা ৪০০ টাকা কেজি। লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকা। আর আগুনের মতো বেগুনের দাম ১০০ টাকা কেজি। কিন্তু রোজার আগেও এই বেগুনের দাম ছিলো ৪০ টাকা কেজি। তারা বলছে, চাহিদার চেয়ে বাজারে সবজি আমদানি কম থাকায় একটু বেড়েছে। আর রমজানে দাম সবসময় একটু বাড়তিই থাকে।

রমজানে বেগুনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রমজানে প্রথম দিনে বাজার করতে আসা প্রত্যেকে বলে, রমজানে যে সবজিগুলো ছাড়া চলে না সেই সবজিগুলোর দাম বেছে বেছে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যা আয় করি তা যদি বাজারে এসে সব দিয়ে দেই, তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চলবে কী করে?

বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে একশ্রেণীর পুজিবাদী ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাজার নিয়ন্ত্রককে ম্যানেজ করে নিজেদের সুবিধামত দর বসিয়ে অধিক মুনাফা আয় করে যাচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। কিছুদিন আগে যা ছিলো ৪৫০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকা । যা রমজানের কয়েকদিন আগেও ছিলো ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকার মধ্যে। তবে বিক্রেতেরা বলছে উল্টো কথা।

তবে ফলের বাজারে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। প্রত্যেকটি ফলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও তা না থাকায় বিপাকে ক্রেতারা। ক্রেতাদের আশা বাজারে মনিটরিং বাড়ানো হলে মধ্যবিত্তরা একটু হাফ ছেড়ে বাঁচবে।