মেইন ম্যেনু

লালমনিরহাটে খ্রিষ্টান যাজককে আইএসের নামে হত্যার হুমকি

দিনাজপুরে দফায় দফায় হামলার পর এবার লালমনিরহাট চার্চ অব গডের যাজক রেভারেন্ট তপন বর্মণকে সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে হত্যার হুমকি দিয়ে হাতে লেখা চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাটের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আইএসের নামে পাওয়া ওই চিঠির বরাত দিয়ে তপন বর্মণ শনিবার দিবাগত রাতে আইনি সহায়তা ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি জিডিও করেছেন।

ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘ফাদারগণ, যাজকগণ (তপন বর্মণ) তোমার যা খেতে মন চায় তৃপ্তি করে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে খেয়ে নাও। আর স্ত্রীর কাছে বিদায়টুকু নিতে ভুলো না। সিরিয়ার আইএস-এর কমান্ডার তোমার মস্তক চেয়ে আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। শীঘ্রই তোমার মস্তক উপহারস্বরূপ পাঠানো হবে। আর যারা লালমনিরহাট জেলায় খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার করে তাদের গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত শীঘ্রই তাদের হত্যা করা হবে। কান্তজির মন্দিরে আমরা বোমা ফাটিয়েছি। ক্ষমতা আছে কি না সময়ে বুঝিয়ে দেব। -কমান্ডার আইএস, বাংলাদেশ শাখা-দিনাজপুর।’

তপন বর্মণ আরো বলেন, ‘হাতে লেখা আইএসের নাম উল্লিখিত চিঠিটি পাওয়ার পর আমাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে স্থানীয় থানায় বিষয়টি অবহিত করেছি। এ ছাড়া আইনি সহায়তা ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছি।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, যাজক তপন বর্মণ আইনি সহায়তা ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া লালমনিরহাটের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি শুরু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তদন্ত চলছে।’