মেইন ম্যেনু

লাশ হওয়ার আগে প্রিয়া, ‘আমাকে ছাড়া কোরবানির গরু কিনো না বাবা’

আমি ভালো আছি বাবা, কোনো চিন্তা করো না। ঈদের আগেই আমি বাড়ি চলে আসব। আমাকে ছাড়া কোরবানির গরু কিনো না বাবা’- লাশ হওয়ার আগে বাবার সাথে মেয়ে প্রিয়ার এভাবেই শেষ কথা হয়েছিল।

বাবা আক্কাস আলী মেয়ে হারানোর বেদনায় বুক চাপড়ে কথাগুলো বলছিলেন। মেয়ে কথা রেখেছে ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে।

মাত্র ৬ দিন আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন প্রিয়া আক্তার। মেহেদির রং মুছতে না মুছতেই অকালে ঝরে গেলেন তিনি। ঘাতক বাসের চাপায় না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো তাকে।

বুধবার বিকেলে ঈদের কেনাকাটা শেষে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন প্রিয়া। কিন্তু বৃষ্টিভেজা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ক্রসব্রিজ এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলটি পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দ্রুতগামী শামীম এন্টারপ্রাইজের একটি বাস তাদের চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রিয়া। গুরুতর আহত হন তার স্বামী রনি মোল্লা।

নিহত প্রিয়া টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা বাদবাহলি গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে।

রনির চাচা মোহাম্মদ আলী জানান, গত শুক্রবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুটিয়াজানি গ্রামে ইমাম মোল্লার ছেলে রনি মোল্লার সঙ্গে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয়। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে প্রিয়া ছিল সবার বড়।

তিনি জানান, বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দিনই প্রিয়াকে (১৯) শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসে। বিয়ের পর প্রথম ঈদ পাওয়ায় প্রিয়া তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে মানিকগঞ্জ শহরে যায় কেনাকাটা করতে।

মোহাম্মদ আলী জানান, কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঘাতক বাস প্রিয়ার প্রাণ কেড়ে নেয়। দুর্ঘটনায় নিহত প্রিয়ার স্বামী সেনাবাহিনীর সদস্য রনিকে গুরুতর আহতাবস্থায় মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা সিএমএস হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘিওর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর পরই বাসটিকে জব্দ করা হলেও চালক পালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।