মেইন ম্যেনু

লুক নিয়ে খুঁতখুঁতানি, ভূত খোঁজা! শুভশ্রী, সায়ন্তিকার মান-অভিমানের গল্প

এবার পুজোয় তো ছবির বাজার গরম। একসঙ্গে হাফ ডজন ছবি…।
শুভশ্রী: আমার কিন্তু ব্যাপারটা পজিটিভ লেগেছে। আগের বছর পাঁচটা ছবি মুক্তি পেয়েছিল। এবার ছ’টা। পরের বছর হয়তো সাতটা ছবি মুক্তি পাবে! মনে হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিটা বড় হচ্ছে। আসলে ক’টা ছবি মুক্তি পাবে, সেই সিদ্ধান্তটা যাঁরা নেন, তাঁরা নিশ্চয়ই ভাবনাচিন্তা করেই নেন। তাঁরা জানেন হাতে যদি মোট ৫০০টা হল থাকে, তাহলে ঠিক ক’টা ছবি রিলিজ করা যাবে। তার সঙ্গে এ-ও দেখা হয়, যে আরও হল কী করে পাওয়া যাবে। মনে হয়, এতে ইন্ডাস্ট্রির ভালই হচ্ছে।

সায়ন্তিকা: দর্শককে বিনোদন জোগানোই তো আমাদের কাজ। এবার যতগুলো ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তাতে সব রকম উপাদানই থাকছে। কান্নাকাটি, অ্যাকশন, রোম্যান্স…।

শুভশ্রী: মেনুতে অনেক কিছু পাবেন দর্শক। আর আমাদের ছবিতে তো সবকিছুই থাকছে।

সায়ন্তিকা: ঠিকই। ‘অভিমান’ ইজ অল অ্যাবাউট ফ্যামিলি ভ্যালুজ। জয়েন্ট ফ্যামিলির গল্প। দু’জন নায়িকা আছে বলে অনেকেই ভাবছেন প্রেমের ত্রিকোণ। কিন্তু তেমন নয়। জিৎদা’র মতো হ্যান্ডসাম হিরো থাকলে রোম্যান্স তো থাকবেই। কমেডি রয়েছে। তবে মূলত পরিবারের গল্প। যৌথ পরিবারে থাকতে গেলে যে সব টানাপড়েন থাকে, সেই নিয়েই গল্প। বাকি সব বোনাস বলতে পারেন।

শুভশ্রী, আপনার আরেকটা ছবিও (‘প্রেম কী বুঝিনি’) পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে। রাজ চক্রবর্তী আর জিতের ‘পাওয়ার কম্বো’ থাকায় ওই ছবির জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে না?

শুভশ্রী: আমি নিজেও জানি, ‘অভিমান’ই বেশি স্ট্রং ছবি। কিন্তু আমি দু’টো ছবির পিছনেই নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছি। তাই আলাদা করে দুশ্চিন্তা হচ্ছে না। যা হবে, ভালর জন্যেই হবে।

যদি ছ’টা ছবির মধ্যে কোনওটাতেই অভিনয় না করতেন, তাহলে সবার আগে কোন ছবিটা দেখতেন?

শুভশ্রী: আমি কোনও ছবিরই প্রিমিয়ারে যাই না। কিন্তু রাজ চক্রবর্তীর সব ছবি দেখি। তাই এটাই দেখতাম।
সায়ন্তিকা: আমি বোধহয় রাজদা’র উপর অভিমানটা বাড়াতাম। এটাতেও নিল না বলে (হাসি…)! বাকি সব ছবিই দেখতাম।

‘অভিমান’এ আপনারা তো দুই বোন?

সায়ন্তিকা: হ্যাঁ। কিন্তু দু’জনের চরিত্র একেবারে উল্টো। নর্থ পোল-সাউথ পোল বলতে পারেন।

শুভশ্রী: আমার চরিত্রটা খুব দুষ্টু। সব সময় ছক কষছে, কাকে বোকা বানানো যায়। ঘুম থেকে উঠেই সেল্‌ফি নেয়। সারাদিনের অ্যাজেন্ডায় থাকে কাউকে জব্দ করা। সকলকে বুলি করা!

সায়ন্তিকা: আমার চরিত্রটা আবার সব সময় কনফিউজ্‌ড। আশপাশে কী হচ্ছে বুঝতে পারে না। এই প্রথম কোনও চরিত্রের জন্যে আমি পরদায় চশমা পরলাম। তবে সেটা রাজদা’র (চক্রবর্তী, পরিচালক) আইডিয়া। লুক টেস্টের সময় হঠাৎ একটা চশমা বার করে পরতে বলেছিল। ফ্রেমগুলো গিকি নয়, স্মার্ট। কিন্তু আমার খুব ইতস্তত লাগছিল। কোনওদিন তো আগে পরিনি। যদি চশমিশের মতো দেখতে লাগে, যদি গ্ল্যামার কোশেন্ট কমে যায়! কিন্তু লুক টেস্টের ছবি দেখার পর বুঝলাম রাজদা ভেবেচিন্তেই এই ইনপুটটা দিয়েছে।

সায়ন্তিকা, প্রথমবার রাজ চক্রবর্তীর ছবিতে কাজ করলেন…।

সায়ন্তিকা: আমার তো রাজদা’র উপর বহুদিন ধরে একটা অভিমান ছিল। আমি রাজ চক্রবর্তীর ছবির এত বড় ফ্যান। এতদিন ধরে আমরা একে অপরকে চিনি। অথচ একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। এই ছবিতে সেই অভিমানটা দূর হয়ে গেল। আসলে কপালে যখন যেটা লেখা থাকে, তখনই হয়। আমায় শ্যুটের প্রথম দিনই রাজদা বলেছিল, ‘প্রত্যেককে গ্ল্যামারাস দেখানোটা আমার কাজ। মেকআপ-হেয়ার নিয়ে না ভেবে অভিনয়ে মন দাও। কারণ সেটাই তোমার কাজ’। রাজদা এমনিতে ডার্লিং। কিন্তু সেট’এ অ্যাকশন আর কাট’এর মাঝের সময়টা ওর নির্দেশ ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না। কিন্তু শ্যুটিং বাদে আমরা খুব মজা করেছি।

শুভশ্রী: আসলে আমি আর সায়ন্তিকা দু’জনেই একরকম। উই হ্যাড আ ব্লাস্ট। এই ছবির আগে আমাদের ‘হাই-হ্যালো’র সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রামোজিতে অনেক লম্বা আউটডোর ছিল আমাদের। সেই সময় খুব মজা করেছি।

মজা বাদে কোনও মান-অভিমানের পালা চলেনি?

সায়ন্তিকা: রোজ শ্যুটিংয়ের পরে রাজদা, জিৎদা আর শুভশ্রী মিলে আমায় টর্চার করত রীতিমতো। জোর করে রামোজি’র কোথায় ভূত আছে, খুঁজতে বেরনো হতো। আর আমি সারাক্ষণ ‘জয় জগন্নাথ’ আওড়াতাম।

শুভশ্রী: আমি তো ফোনে ঘোস্ট ডিটেকটিং অ্যাপও ডাউনলোড করেছিলাম। কোনদিকে বেশি জোরাল সিগন্যাল আসছে দেখাতাম (হাসি…)। ভূত-খোঁজার অভিযানগুলো দারুণ ছিল।