মেইন ম্যেনু

লেবানন থেকে ফেরত আসছেন ৩৭০ প্রবাসী

মধ্য প্রাচ্যের দেশ লেবানন থেকে বৈধ কাগজপত্রহীন ৩৭০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসছেন। ইতিমধ্যে ২০ জন দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২৪ জুন) পৃথক তিনটি ফ্লাইটে আরও ৩০ জন লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরছেন। ঈদুল ফিতরের আগে পর্যায়ক্রমে বাকি সাড়ে তিনশ’ প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৫০ মিনিট, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট এবং একই দিনের রাত ৯টা ২০মিনিটে আলাদা তিনটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরছেন উল্লিখিত ৩০ প্রবাসী। ফেরত আসা সাড়ে তিনশ’ জনের মধ্যে ২২ জনের খরচ বহন করছে সরকার। বাকিরা নিজের খরচে দেশে ফিরছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আরও ২০ জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তারা অসুস্থ থাকায় আলাদাভাবে পাঠানো হয়েছিল।

লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্যোগ ও সেই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতায় কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিরা দেশে ফেরত আসার সুযোগ পাচ্ছেন। লেবাননে বাংলাদেশের প্রায় এক লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে কাগজপত্রহীন বা অবৈধভাবে আছেন প্রায় ২০ হাজার।

লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধদের দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাসের দেওয়া ঘোষণায় মাত্র ৩৭৫ জন প্রবাসী আবেদন করে সাড়া দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জনকে আগেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সাড়ে তিনশ জনকে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাকি কয়েক জনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের মামলা থাকায় এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেননি।

লেবাননে নিয়োজিত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই ক্লিনার হিসেবে কর্মরত। অল্প সংখ্যক প্রবাসী শপিংমল, খামারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেন।

বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে একসঙ্গে এত বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত ছাড়াই তারা দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব জানান, ঈদের মৌসুমে একসঙ্গে এত মানুষের টিকিট পাওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। তারপরও বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করছি ঈদের আগেই সবাইকে বাংলাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লেবাননে অবৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীরা সে দেশের আইন আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করে বছরে ৫০-৬০ জনের মতো দেশে ফিরতে পারেন। এবার সে দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগে একসঙ্গে সাড়ে তিন শ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

লেবাননে কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যেসব মালিকের অধীনে প্রথমে তারা এসেছিলেন সেই মালিকদের অধীনে কয়েক সপ্তাহ কাজ করার পর হয়তো বেশি আয়ের লোভে, না হয় দালালের মাধ্যমে অন্যত্র কাজ করতে চলে যান। এরপর থেকেই তারা কাগজপত্রহীন বা অবৈধ হয়ে পড়েন।

‘এদের মধ্যে একটা অংশ আছেন যারা ওইভাবে গিয়ে কাজ জোগাড় করতে পারেননি। আবার অনেকে দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরতে চান। এমন ৩৭০ জনের মতো আমাদের দেওয়া সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফিরতে চেয়েছেন। তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি’ জানান রাষ্ট্রদূত।

এ প্রক্রিয়ায় লেবাননের যারা বাংলাদেশে ফিরতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদেরকে সে দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করার জন্য লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ছবি : লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।