মেইন ম্যেনু

লেবু পছন্দ করেন না? জেনে নিন এর বাহারি সব গুণাগুণ

সুপারফুড কাকে বলে জানেন তো? সুপারফুড হলো সেসব খাবার যেগুলোর আছে জাদুকরী সব উপকারিতা। এর কাতারে পড়ে স্যামন, কোকো পাউডার, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি। কিন্তু লেবুকে সুপারফুড বললে আসলে কম বলা হয়ে যাবে। লেবু ছাড়া অনেকেই ভাত খেতে পারেন না মোটে, আর এর স্বাস্থ্য উপকারিতার তো ইয়ত্তা নেই। লেবুতে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এ কারণেই বিভিন্ন ধরণের রোগ উপশমে এর অবদান অতুলনীয়। দেখে নিন লেবু খাওয়া বাড়িয়ে দেবার ১০টি দারুণ কারণ।

১) কিডনি স্টোন প্রতিরোধ

প্রতিদিন আধা কাপ লেবুর রস পান করলে মুত্রে সাইট্রেট লেভেল বেড়ে যায়। এটা কিডনিতে ক্যালসিয়াম স্টোন তৈরিতে বাধা দেয়।

২) গলা খুসখুস দূর করতে

এটা আমরা সবাই জানি যে ঠাণ্ডা লাগলে লেবু এবং কমলা খেতে হয়। কিন্তু এটা অনেকেই জানি না যে মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ঠাণ্ডায় বসে যাওয়া গলার অস্বস্তি দূর হয়।

৩) ওজন কমায়

লেবুর রসে থাকে পেক্টিন। এটা হলো এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার যা ওজন কমানোর কাজটা অনেক সহজ করে দিতে পারে। তবে অনেকে জুস ক্লিনজিং ডায়েটে লেবুর রস ব্যবহার করেন। অর্থাৎ আর কিছু না খেয়ে শুধু জুস পান করে ডায়েট করেন। এক্ষেত্রে লেবুর রস পান করা যাবে না। স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস বজায় রেখে তার পাশাপাশি পান করতে হবে লেবুর রস।

৪) দিনের শুরু করুন ভালোভাবে

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি কী করেন? নিশ্চয়ই এক কাপ চা বা কফি খোঁজেন। কিন্তু হালকা গরম পানির সাথে পাকা লেবুর রস পান করলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র জেগে ওঠে। এর পাশাপাশি শরীর যে ভিটামিন সি পায় তা তো বলাই বাহুল্য।

৫) চুলকানি দূর করে

পোকার কামড় বা চুলকানি তৈরি করে এমন গাছের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া হলে সেখানে লেবুর রস ঘষে দিন। এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এবং অ্যানেসথেটিক বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে তা ত্বককে প্রশান্তির অনুভূতি দেয়।

৬) হজমে সাহায্য করে

ডক্টর অজের মতে, লেবুর রস এবং ফ্ল্যাক্স বীজের একটি মিশ্রণ পান করলে শরীর থেকে বর্জ্য দূর হয়ে যায় সহজে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭) অ্যান্টিক্যান্সার বৈশিষ্ট্য

হ্যাঁ, ক্যান্সার দূরে রাখতেও সাহায্য করে লেবু। লেবুর লিমিনয়েড নামের রাসায়নিক আমাদের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে ফলে এদের মাঝে ক্যান্সার তৈরি হতে পারে না সহজে।

৮) পটাশিয়ামের শক্তি

লেবুতে ভিটামিন সি তো আছেই। এর পাশাপাশি আছে অনেকটা পটাশিয়াম। এটা আমাদের শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।

৯) জ্বর কমায়

জ্বর কমাতে আমরা একেক জন একেক ধরণের কাজ করে থাকি। কেউ বা আগাপাশতোলা কাঁথায় মুড়ি দিয়ে পড়ে থাকি, কেউ ঘুমাই, কেউ মুড়ির মতো ওষুধ খেতে থাকি, কারও মা হয়তো মাথায় পানি ঢেলে দেন বা দেন জলপট্টি। এতকিছু না করে এক গ্লাস লেবুর শরবত পান করে ফেলুন। এটা জ্বর কমাতে সাহায্য করবে।

১০) আয়রন গ্রহনে সাহায্য করে

শাক অথবা রেড মিটের মতো খাবারে প্রচুর আয়রন থাকে। এগুলো খাবার সাথে সাথেই লেবু খাওয়ার চেষ্টা করুন। লেবু এসব খাবারের আয়রন শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।

লেবু খাওয়ার টিপস

– এক টুকরো লেবু চিপে নিন আপনার গ্রিন টির কাপে। এতে গ্রিন টি থেকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আপনার শরীর আরও সহজে শোষণ করতে পারবে।

– বোতলজাত লেবুর রস পান না করাই ভালো, এতে ভিটামিন সি এর পরিমাণ কম থাকে। টাটকা লেবু কিনে বাড়িতেই লেবুর শরবত তৈরি করে নিন।