মেইন ম্যেনু

লোডশেডিং চলবে আরো ২ দিন

প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই চলছে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া। ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে মোট চাহিদার ১৬ শতাংশ করে লোডশেডিং হচ্ছে। আর ঢাকা অঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে চাহিদার শতকরা ১২ ভাগ। যদিও এটি বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া তথ্য। অনেক স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টায়ও বিদ্যুতের দেখা মিলে না।

মূলত নৌ-ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয় দেশের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। আর এ কারণেই কয়েকদিন ধরে চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং। এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ সঙ্কটের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নৌ-ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় এখন জ্বালানি তেলে সঙ্কট কেটে যাবে। আগের অবস্থায় ফিরবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে স্বাভাবিক হতে আরো দুই দিন সময় লেগে যেতে পারে।’

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ৯ এপ্রিল উৎপাদন হয় ৮ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট। তবে নিয়মিত সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয় না। যদিও রাতে পিক আওয়ারে চাহিদা ছাড়িয়ে যায় আট হাজার মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং করতে হয় নিয়মিত।

সূত্র মতে, এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গত বছরও এপ্রিলজুড়ে গড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তবে এ বছর তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে কিছু কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে, যার বড় অংশই বেসরকারি খাতের। যদিও বেসরকারি খাতের বিদ্যুকেন্দ্রে বড় অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে সরকার। আর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে দোহাই দিচ্ছে জ্বালানি সঙ্কটকে। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে নৌ-যান ধর্মঘট থাকার কারণে কিছুটা জ্বালানি সঙ্কট হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মজুরি বাড়ানো পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের মতো সুযোগ-সুবিধা দেয়া, নৌ-পথে অবৈধ চাঁদাবাজি ও অবৈধ ইজারা বন্ধ করা, প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক দেয়া, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসাকালে বেতনের দাবিসহ ১৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট শুরু করে।

এরপর যাত্রীবাহী নৌযান ধর্মঘট গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে স্থগিত হলেও মালবাহী নৌযানে ধর্মঘট চলছিল। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টার বৈঠক শেষে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের আশ্বাসে সব ধরনের নৌযান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। ফলে মঙ্গলবার রাত থেকেই যথারীতি সব ধরনের নৌ-যান চলাচলা শুরু করে।