মেইন ম্যেনু

লৌহজংয়ে পদ্মার পানি হ্রাস পেলেও কমেনি বন্যার্তদের দুর্ভোগ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মার পানি হ্রাস পেলেও কমেনি বন্যার্তদের দুর্ভোগ।সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পদ্মায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি পেলেও মঙ্গলবার থেকে মাওয়া ও ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মার পানি হ্রাস পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে মাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ও ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল পদ্মার পানিপ্রবাহ।

এদিকে গত ২৪ঘন্টার ব্যবধানে ভাগ্যকূল পয়েন্টে ১১সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়ে ৬.৭৮ মিটার থেকে ৬.৬৭মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

একইসাথে মাওয়া পয়েন্টে ১০সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়ে ৬.৩৯মিটার থেকে ৬.২৯মিটারে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।একইসাথে গত ৩দিনে মাওয়া পয়েন্টের পদ্মায় ১৮ সেন্টিমিটার ও ভাগ্যকূল পয়েন্টের পদ্মায় ২১ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়েছে বলে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

তবে নদীর পানি হ্রাস পেলেও নদীতীরবর্তী পানিবন্দী পরিবারগুলোর বাড়িঘর ও ভেতরের শাখা রাস্তায় থেকে পানি নামা শুরু হয়নি। কেননা বিল-চক এলাকার আটকে থাকা পানি এসব বাড়ীঘর, ভেতরের শাখা রাস্তায় প্রবেশ করছে। মূলত:এসব বন্যাকবলিতরা খাবার পানি,রান্না ও চলাফেরায় চরম কষ্টের শিকার হচ্ছেন বলে দুর্গতরা জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।এ সময় শিমুলিয়া ও লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বন্যার্ত প্রায় ১হাজার জনের প্রত্যেককে মাঝে ২০ কেজি করে চাল, নগদ অর্থ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান জানান, বন্যাকবলিত হয়ে উপজেলার মেদিনীমন্ডল, কুমারভোগ, হলদিয়া, কনকসার, লৌহজং-তেউটিয়া, কলমা, গাওদিয়া ইউনিয়নে নদীতীরবর্তী প্রায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তবে এসব এলাকায় নতুন করে এখনো কোন নদীভাঙন দেখা দেয়নি।

এদিকে শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের পদ্মায় স্রোত অব্যাহত থাকায় এখনো ডাম্ব ফেরি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। পদ্মা পাড়ি দিতে এসব ফেরিগুলো শিমুলিয়া থেকে কাওড়াকান্দি যেতে অতিরিক্ত ১ঘন্টা সময় লাগছে।
অপরদিকে, মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ২নং ফেরিঘাট টানা ৭/৮দিন থেকে পানিতে তলিয়ে এ ঘাটে ফেরি লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। তবে, ১নং ও ৩নং ঘাট দিয়ে যানবাহন লোড-আনলোড সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক খন্দকার খালিদ নেওয়াজ।