মেইন ম্যেনু

শখের যে কাজগুলো করলে বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়

প্রত্যেকেরই কোন না কোন শখ থাকে। কেউ সাঁতার কাটতে পছন্দ করে, কেউ দাবা খেলতে পছন্দ করে আবার কেউ সিনেমা দেখতে পছন্দ করে। আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন এই শখের কাজ গুলোই আপনার স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞানীয় কাজের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম! হাঁ আপনি যদি আপনার শখের কাজগুলো করে অনেক আনন্দ পান তাহলে সেগুলো আপনাকে আরো অনেক বেশি বুদ্ধিমান হতে সাহায্য করবে।

১। বাদ্যযন্ত্র বাজানো
সঙ্গীত বাজানো সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা, ভাষা ও গণিতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বাদ্যযন্ত্র বাজালে নতুন সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে করপাস কেলুসাম শক্তিশালী হয় যা মস্তিষ্কের হেমিস্পেয়ারের সাথে সংযুক্ত। একটি উন্নত করপাস কেলুসাম কার্যনির্বাহী দক্ষতা, স্মৃতি, সমস্যার সমাধান করার এবং মস্তিষ্কের সার্বিক কাজেরই উন্নতি ঘটায় আপনার বয়স যতই হোকনা কেন।

২। যে কোন কিছু পড়া
গল্প-উপন্যাস পড়া অথবা পত্রিকা পড়া যাই পড়েন না কেন তা আপনার স্ট্রেস কমতে সাহায্য করবে, আপনি নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব করতে পারবেন এবং আপনার সকল ধরণের বুদ্ধিমত্তার বৃদ্ধি ঘটাবে। এই কাজটি সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান প্রাত্যহিক জীবন পরিচালনা করতে সাহায্য করে অনেক বেশি। অন্যদের বোঝার ক্ষমতা বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে কাজ বোঝার ক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ে।

৩। নিয়মিত ব্যায়াম করা
ব্যায়াম করা ভালো এই কথাটি আমরা সবাই জানি কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করেলে যে বুদ্ধিমত্তা ও বারে এটা কি জানেন? হাঁ ব্যায়াম করলে Brain Derived Neurotrophic Factor (BDNF) নামের একধরণের প্রোটিন এর নিঃসরণ ঘটায় যা জ্ঞানীয় সুবিধা যেমন- দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির সাথে সম্পর্কিত। ২০০৯ সালে ডার্ট মাউথ কলেজের এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া যায়। ইয়োগা অথবা দৌড়ানো আপনি যেটা করতে পছন্দ করেন সেটাই করুন।

৪। ভিডিও গেম খেলা
ভিডিও গেম এর বেশ দুর্নাম আছে, সব ভিডিও গেম কিন্তু খারাপ না। কিছু গেম আছে যা আমাদের মস্তিষ্ককে সুশাসিত করে। কর্মের স্মৃতির উন্নতি ঘটায় – পূর্বে সংরক্ষিত তথ্য ও নতুন তথ্যকে প্রসেস করে এবং ধারণ করে। ২০১২ সালে লিন্ডার বিশ্ববিদ্যালয় এই তথ্য প্রকাশ করে। দিনে ৩০ মিনিট ভিডিও খেললে ব্রেইন এর গ্রে ম্যাটার বৃদ্ধি পায়। ফলে স্থানিক পরিভ্রমণ, কৌশলগত পরিকল্পনা ও গতির কর্মদক্ষতার উন্নতি ঘটায়।

৫। বিদেশি ভাষা শিক্ষা
বিদেশী ভাষা শিখলে একটি নতুন দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পাশাপাশি অন্তরর্দৃষ্টি গভীর হয় এবং এর ফলে মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সহজ ও দ্রুত হয়। তাই শৈশবেই বিদেশি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ। তবে পূর্ণ বয়স্ক অবস্থাতেও বিদেশি ভাষা শিখতে পারেন। ভাষা শিক্ষার ফলে মস্তিষ্কের উন্নয়ন হয় এবং জটিল কাজ সমাধা করা সহজ হয়।

৬। ভ্রমণ
ভ্রমণ শুধুমাত্র একঘেয়েমি দূর করেনা বরং বুদ্ধিমত্তাও বৃদ্ধি করে। ভ্রমণে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরণের পরিশ্রমই হয়, ফলে মনের চাপ কমে। স্ট্রেস কমলে কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া ও ভালোভাবে কাজ বুঝতে পারার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নতুন জায়গায় ভ্রমণের ফলে আপনি নতুন অনেক কিছু শিখতে পারেন। বিপরীত ধরণের মানুষ, খাদ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা ও সামাজিকতার সাথে পরিচিত হতে পারেন যা আগে আপনি জানতেননা।

এমনই আরো কিছু শখের কাজ আছে যা বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে – নতুন বা ভিন্ন ধরণের কিছু রান্না করা, খেলায় অংশগ্রহণ করা, অনুভূতি লেখা, ব্রেইন গেম যেমন-সুডকু, পাজেল, ধাঁধা ইত্যাদি খেলা, ধ্যান করা।