মেইন ম্যেনু

শেষ ওভারে হার

শততম জয়ের অপেক্ষা বাড়লো টাইগারদের

ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪৫। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট। পরে আরো একটি। এমন অভিষেকের পরও ২ উইকেটের হার দেখতে হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। আর ওয়ানডেতে শততম জয় পেতে অপেক্ষাটা বাড়লো টাইগারদের। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা আনলো আফগানরা।

বাংলাদেশ এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভার ব্যাট করতে পারে। যার পেছনে ওই মোসাদ্দেকের অবদানই সবচেয়ে বেশি। ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তাইজুলকে নিয়ে রান বাড়াতে থাকেন। এরপর রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় স্কোর নিয়ে যান, ২০৮ এ।

শুরুতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন ব্যাটসম্যানরা। তামিম-সৌম্য কেউ দাঁড়াতে পারেননি। এরপর রিয়াদ-মুশফিক কিছু পথ পার করে বিদায় নেন। সাকিব আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে পথ ধরেন। সাব্বির লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ। মাশরাফি চড়াও হতে যেয়ে ধরা।

বিদায়ের মিছিল তামিমকে দিয়ে শুরু। ৩৬ বলে ২০ রান করে আশরাফের বলে কাটা পড়েন। এরপর সৌম্যকেও ফেরান ওই আশরাফ। ৩১ বলে ২০ রান করতে পারেন তিনি। ধরা পড়েন শাইদির হাতে।

২৫তম ওভারের শেষ বলে রিয়াদ নাভিদ-উল হকের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। যাওয়ার আগে ৩৯ বলে করে যান ২৫। ‘ভায়রা’কে হারিয়ে মুশফিক সাব্বিরকে নিয়ে চাপ সামলানোর আগেই বোকা বনে যান। ২৮তম ওভারের প্রথম বলে রহমতউল্লাহকে ডিপ স্কয়ার লেগে টেনে মারতে যেয়ে নাভিদ-উল হকের হাতে ধরা পড়েন। তখন ৫১ বলে ৩৮ রানে ছিলেন। আরেক প্রান্তে ৭ রানে ছিলেন সাকিব। তার সঙ্গে যোগ দেন সাব্বির।

৩২তম ওভারে নবীর করা শেষ আর্ম ডেলিভারি ব্যাকফুটে খেলতে যেয়েই বিপদ ডাকেন সাকিব। ব্যাট ছুঁয়ে বল লাগে প্যাডে। কিন্তু আম্পায়ার তর্জনী উঁচু করে দেন!

সাকিব এদিন বেশ ধীরে-সুস্থে খেলছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২১ বল খেলে ১৭ রানে বিদায় নেন।

পরের ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন সাব্বির (৪)। রশিদ খানের গুগলি হাঁটুগেড়ে সুইপ করতে যেয়ে লাইন মিস করে এলবি হন।

এরপর মাশরাফি এসেও সতর্কভাবে শুরু করেন। দুটি ডিফেন্সও করেন। কিন্তু ৩৪তম ওভারে নবীর শেষ বলে স্টেফ আউট করে শট নিয়ে মিডঅফে দৌলত জাদরানের হাতে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের দলীয় স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১৪১।

এই অবস্থায় স্পিনার তাইজুলকে নিয়ে হাল ধরেন মোসাদ্দেক। তাইজুল ৩১টি বলও খেলেন। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ। লেগ স্পিনার রশিদ খান তাকে ফিরিয়ে দেন। ঠিক পরের বলে তাসকিনকে বিদায় করেন তিনি। রুবেল এসে হ্যাটট্রিক থামান। এই রশিদ প্রথম ম্যাচেও তার ঘূর্ণি জাদুতে বাংলাদেশকে ভোগান।

বল করতে নেমে সাকিব শুরু থেকে আক্রমণে যান। দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন। এরপর আঘাত হানেন মোসাদ্দেক। দুটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। মাঝখানে মাশরাফি একটি নেন।

শেষ দিকে ৩২ বলে ২০ দরকার ছিল আফগানদের। হাতে ছিল ৪ উইকেট। ঠিক তখন রশিদ খানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে আশা জাগান সাকিব। এটি ছিল তার চতুর্থ উইকেট। এই নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে শততম উইকেট নেয়ার নজির গড়লেন এই অলরাউন্ডার।

মোসাদ্দেক এরপরও চিত্রনাট্যে ছিলেন। ২৪ বলে তখন আফগানদের চাই ১৫। মাশরাফি স্মরণ করলেন অভিষিক্তকে। মোসাদ্দেক আসলেন। মন জয় করলেন। মুশফিকের সহজ স্ট্যাম্পিং মিসের কারণে চূড়ান্ত কাজটুকু করতে পারলেন না। খরচ করেন ২ রান।

পরের ওভারে তাইজুলও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন। দিয়ে যান ২ রান।

এরপর শেষ দুই ওভারে সলীল সমাধি হয় সব উত্তেজনার।

যেমন ছিল শেষ দুই ওভার:

এই ১২ বলে সফরকারীদের দরকার ছিল ১২। মাশরাফি আবার স্মরণ করেন মোসাদ্দেককে।

প্রথম বলে এক। দ্বিতীয় বল খেলেন আশরাফ। ডাউন দ্য উইকেটে এসে হাফভলি বানিয়ে টান মারেন। ছয়য়! ১০ বলে দরকার ৪। পরের বলে সিঙ্গেল। তারপরের বলেও এক। পরেরটি ডট। শেষ বলও ডট।

ফাইনাল ওভারে দরকার ২। আক্রমণে আগের ম্যাচের নায়ক তাসকিন। প্রথম বলে হালকা বাউন্স। সরাসরি মুশফিকের হাতে। ডট। দ্বিতীয় বল সেই ইয়র্কর। এবারও ডট। ৪ বলে দরকার ২। তৃতীয় বল ওয়াইড!!! বাউন্স করাতে চেয়েছিলেন। ম্যাচ ড্র। চার বলে দরকার ১। তৃতীয় বল অফস্ট্যাম্পে ফুলটস। নাজিবুল্লাহ জাদরান ব্যাট দিয়েছিলেন। ক্যাচচচচচ! মোসাদ্দেকের হাতে। পরের বল থার্ডম্যান দিয়ে চাররর!!

২ উইকেটে হার বাংলাদেশের!