মেইন ম্যেনু

শততম জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে

প্রথম জয়টা এসেছিলো ১৯৯৮ সালে আকরাম খানের হাত ধরে। এরপর বুলবুল-সুজন-বাশার-আশরাফুল-মুশফিক-সাকিব-মাশরাফিদের হাত ধরে বাংলাদেশে জয়রথ ছুটে চলেছে। বাংলাদেশ এখন ‘৯৯ নটআউট’। আজ বুধবার হয়তো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজই কাঙ্ক্ষিত শততম জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে। আজ হয়তো দুই সংখ্যা ডিজিট পাল্টে তিন সংখ্যার অর্থাৎ ‘১০০ নটআউট’ হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।কারণ নেতৃত্ব এখন মাশরাফির হাতে। তাইতো ভক্তরা আশাবাদী বুধবারই আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশ ‘সেঞ্চুরি’ পাচ্ছে!

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রকেট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। বেলা আড়াইটায় শুরু হবে ম্যাচটি। দিবা-রাত্রির ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বেসরকারি টিভি চ্যানেল গাজী টেলিভিশন।

বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ে এখন বাংলাদেশের পেছনে। শততম জয় পেতে জিম্বাবুয়ে খেলতে হয়েছে ৩৭৯ ওয়ানডে ম্যাচ। আর বাংলাদেশ আজ খেলতে নামবে ৩১৪তম ম্যাচ। ম্যাচটি জিতে গেলেই শততম জয় পাবে লাল সবুজরা জিম্বাবুয়ের চেয়ে ৬৫ ম্যাচ কম খেলে।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠে আফগানদের চেপে ধরতে নানান রণকৌশল সেট করেছেন টাইগার কোচ ও অধিনায়ক। সেই সঙ্গে ১০ মাস পর মাঠে নেমে চাপ সামলে এই মূহুর্তে কিছুটা হলে মানসিক স্বস্তিতে আছে টাইগার শিবির। তাইতো শুধু শততম জয়ের চিন্তাই করছেন না ক্যাপ্টেন মাশরাফি। তিনি দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে আগে ভাগেই শিরোপা নিশ্চিত করতে চান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক মাশরাফির আত্মবিশ্বাস প্রথম ম্যাচের তুলনায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে তার সতীর্থরা।

তিন বিভাগেই নিজেদের সেরা এবং চেনা ছন্দে ফিরতে চায় টাইগাররা। সিরিজ জয়টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ব্যাপার সেকেন্ড ম্যাচ জিতলে সিরিজটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। এজন্য দ্বিতীয় ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ।’

তাই বলে আফগানরাও কিন্তু বসে নেই। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতা আনতে মরিয়া থাকবে নবীরা। এটাই স্বাভাবিক। আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে আসা লেগ স্পিনার রশিদ খান সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছু ভুলের কারণে আমরা জয়ের কাছাকাছি গিয়ে জয় বঞ্চিত হয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচে আর এমন ভুল করতে চাই না। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। আশা করি কালকের (বুধবার) দিনটা ভালোই যাবে।’ রশিদ খানের কথাতেই স্পষ্ট আজ মরণ কামড় দেবে আফগানরা।

অধিনায়ক হিসেবে সব ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড এখন মাশরাফির। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে মাশরাফি দখলে নিয়েছেন। আজ বুধবার মাশরাফির সামনে আরেক অর্জনের হাতছানি। জিতলেই শতমত জয়ের অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয় সফল অধিনায়ক মাশরাফি নাম লেখা হয়ে যাবে।

মাশরাফি অবশ্য এসব নিয়ে অতোবেশি ভাবেন না কখনোই। তাইতো অল্প কথাতেই বলেছেন, ‘কেউ না কেউ তো থাকতই। বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হবে। আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন সেটা হয়। এজন্য আমাদেরকে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

১৯৯৮ সালের ১৭ মে ভারতের হায়দরাবাদে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। আকরাম খানের নেতৃত্বে, ওটাই ছিলো প্রথম ওয়ানডে জয়। গত ৩০ বছরে ৩১৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ।

বুধবার গৌরবের অর্জনের হাতছানি টাইগারদের সামনে। আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭ রানে। তুমুল লড়াইয়ের পর পাওয়া জয় টাইগারাদেরও অনেক পরীক্ষা নিয়েছে। ১০ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে অনেক জড়তাই ছিল মাশরাফিদের। শেষ অবধি জয়টা স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস পাইয়ে দিয়েছে দলকে। বুধবার তাই আরও ভালো পারফরম্যান্স করার রসদ পেয়েছে গোটা দল।

প্রথম ম্যাচের জয়টা কষ্টার্জিত হলেও মানসিকভাবে দারুন স্বস্তিতে এখন টাইগাররা। বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে তাই উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই মাঠে নামার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও হয়, মাত্র একটি পরিবর্তন হতে পারে। তাইজুলের জায়গায় খেলতে পারে নাসির হোসেন।