মেইন ম্যেনু

শনিবার নয় রোববার বিক্ষোভ করবে বিএনপি জোট

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সিএনজির অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করার জন্যই আগামী রোববার সারাদেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবে ২০ দলীয় জোট।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ২০ দলীয় জোটের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জোটের পক্ষে বার্তা প্রেরণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

অবশ্য দুপুরের দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচি শনিবার ঘোষণা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাতে সংশোধিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভ জন্মাষ্ঠমী ৫ সেপ্টেম্বর হওয়ায় ২০ দলীয় জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ রোববার অনুষ্ঠিত হবে।

20প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশ যখন বন্যায় ভাসছে, লাখো বন্যার্ত মানুষ যখন বিপন্ন, পিয়াঁজ, মরিচ, শাক-সব্জি, চাল, ডাল, মাছ-মাংসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের কোটি কোটি মানুষ যখন দিশেহারা-ঠিক তখন আবার অযৌক্তিক ও বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার থেকে কমে যখন মাত্র ৪০ ডলার হয়েছে এবং গত ৫ বছরে সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলা যেখানে ২০ হাজার ৮০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে তখন তেল এবং তেল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ, গ্যাস, সিএনজির দাম কমানো হবে এটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তাদের কোনো দায় নেই বলেই বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম না কমিয়ে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তকে দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আমরা তাই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা ২০ দলীয় জোট সরকারের এ গণবিরোধী, শিল্প বিরোধী, কৃষি বিরোধী, বিনিয়োগ বিরোধী, কর্মসংস্থান বিরোধী তথা দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলে বাধ্য করার জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কুইক রেন্টালের নামে লুট করা হাজার হাজার কোটি টাকার দায় জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়ার সরকারি এই অযৌক্তিক, অন্যায় ও গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।

বিদ্যুৎ, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে দেশবাসীকে ভাওতা দেয়া হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৩ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে দেশবাসীর সাথে ভাওতাবাজি করা হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৩ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে মাত্র ৪ শতাংশ জনগণের উপর। বাকি ৯৬ শতাংশ মানুষের কোনো আয় বৃদ্ধি ছাড়াই বাড়তি ব্যায়ের শিকার হবে।