মেইন ম্যেনু

শবে বরাতে গোরস্থানের পাশে ‘ভিক্ষার সিট’ ১০০ টাকা

কবরস্থান থেকে বের হওয়া মাত্র ঘিরে ধরছে ভিক্ষুকেরা। পবিত্র শবে বরাতে আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় এমন চিত্র। শুধু কবরস্থান নয় এই ভিক্ষুকদের শিকার আজিমপুর থেকে কবরস্থান হয়ে সেকশন কামরাঙ্গীর চরে যাতায়াতরত সব পথচারী। আজিমপুর বাসস্টান্ড থেকে পুরো রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যারিকেড দিয়ে দেয়ার কারণে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা শিকার হচ্ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতির।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, এই ভিক্ষুকেরা অনেকেই পেশাদার ভিক্ষুক নন। কেউ কেউ এসেছেন অনেক দূর থেকে, ঢাকার বাইরে থেকে। এখানে সিট (ভিক্ষার স্থান) ভাড়া হিসেবে বিক্রি হয়। দাঁড়ালে ৬০ এবং বসলে ১০০ টাকা ভিত্তিতে এখানে সিট বিক্রি হয়! তবে এটা নির্ভর করে কবরস্থান থেকে দূরত্বের ওপর। কেননা কবরস্থানের মূল ফটকের কাছাকাছি থাকলে কামাইটা বেশি হয় বলে জানালেন ওই স্থানেই বসে থাকা এক ভিক্ষুক।

পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এই স্থানে সমাগম ঘটেছে নানা ধরনের ভিক্ষুকের। কেউবা শারিরিক ভাবে অক্ষম, কেউ সামনে কোরআন শরিফের পাতা খোলা, কারো কোলে বাচ্চা। কেউ চাইছেন করুণ সুরে, কেউবা কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করছেন। যদিও কান পেতে থাকলে গুনগুন আওয়াজ ছাড়া একটা শব্দও বুঝার উপায় নেই। শত শত ভিক্ষুক এবং কেনইবা দান করছেন এমন ভিক্ষুকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কবর জিয়ারত করতে আসা এক ব্যক্তি বললেন, ‘আসলে বাবা-মা এর জন্য দোয়া করতে এসেছি। আর এই রাতে দান করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়, আমি মন থেকে দান করি. কে আসল কে নকল এটা যার যার বিষয়।’

এদিকে সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে লালবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, পুরো এলাকা কঠোর নজরদারির মধ্যে আছে। আট প্লাটুন পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে। গত বছরের চেয়ে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে । তবে অবস্থা দেখে মনে হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে ভিক্ষুক সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। কখনো কখনো তারা জড়িয়ে পড়ছে মারামারিতে। কেউ টাকা দিতে এলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সবাই। রাফি নামে এক পথচারি বললেন, ‘পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান ভিক্ষুকমুক্ত করা হচ্ছে, কিন্তু এইখানে এসে মনে হয় সব ভিক্ষুক এখানেই জড়ো হয়েছে, এমন সহজ পথে টাকা উপার্জন তাদেরকে কর্মবিমুখ করে তুলছে। এখনই এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এমন ধরনের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।-বাংলামেইল