মেইন ম্যেনু

শব্দ শুনেই সব পাখির নাম বলে দিতে পারেন অন্ধ এই যুবক!

শব্দ শুনেই পাখি চিনতে পারেন জন্ম থেকে অন্ধ উরুগুয়ের ২৯ বছর বয়সী এই যুবক। জুয়ান পাবলো কুলাসোর উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ানো পাখি কখনো দেখা হয়নি।

কিন্তু বিশেষ শ্রবণশক্তির কারণে ৭২০ প্রজাতির তিন হাজারেরও বেশি পাখির শব্দ শুনেই বলে দিতে পারেন পাখির নাম।

জুয়ান পাবলো কুলাসোর এ ক্ষমতার জন্যই বার্তা সংস্থা এপি তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুলাসো যখন ছোট ছিলেন, তখন থেকেই পাখির শব্দ খুব স্পষ্ট বুঝতে পারতেন। এ ধরনের শ্রবণশক্তি বিশ্বের প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে একজনের থাকে।

তার বাবা তাকে এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে পাখির নাম পড়ে এবং অডিও রেকর্ডারে ওইসব পাখির শব্দ শোনাতেন।

অন্ধ কুলাসো বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি পাখির শব্দ শুনে পাখিদের নাম মনে রাখার চেষ্টা করতাম। ২০০৩ সালে আমি এক পাখিবিজ্ঞানীর কাছে যাই। এরপর ওই পাখিবিজ্ঞানীর পাখির প্রতি ভালোবাসার কথা শুনে অনুপ্রাণিত হই। তিনি আমাকে একটি রেকর্ডার দিয়েছিলেন।

তার এই বিশেষ ক্ষমতার কারণে তিনি সাউন্ডট্র্যাক ডকুমেন্টারিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ব্রাজিলে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি বায়োএকুইস্টিক ও প্রাকৃতিক শব্দ নিয়ে কাজ করেছেন।

পাখি চিনতে পারার এ অসাধারণ ক্ষমতার কারণে ২০১৪ সালে নেট জিও টেলিভিশন প্রোগ্রামের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার পান কুলাসো।

এর বেশির ভাগ অর্থ তিনি অডিও রেকর্ডার কেনার কাজে ব্যয় করেন। ওই প্রোগ্রামে তাকে ২৫০টি পাখির মধ্যে ১৫টি পাখি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল। অবলীলায় বলেছিলেন সব ক’টির নাম।

উরুগুয়ে রিপাবলিক ইউনিভার্সিটির ফোনোলোজি বিভাগের প্রধান অ্যালিসিয়া মুনইয়ো বলেছেন, পাখি চিহ্নিত করার এ বিশেষ ক্ষমতার ক্ষেত্রে তার শ্রবণশক্তির চেয়েও মস্তিষ্ক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি কুলাসো অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে দু’মাসের ভ্রমণ শেষ করেছেন। সেখানে বিভিন্ন জাতের নানা ধরনের পাখির শব্দ রেকর্ড করেন তিনি।