মেইন ম্যেনু

শহাজালালের নিরাপত্তা দেখতে ঢাকায় জার্মান প্রতিনিধি

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান খতিয়ে দেখতে আজ বাংলাদেশে আসছেন জার্মান অভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের একটি দল। জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা এয়ারলাইনস বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন (কার্গো) নিষিদ্ধ করার মাত্র দুদিন পর এই দলটি ঢাকা সফরে আসছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিটিশ বিষেষজ্ঞদের মত জার্মান দলটিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই বাছাই করে দেখবে। জার্মানির বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিমানকে এ সংক্রান্ত একটি পত্র দিয়েছে।

জার্মান সরকার বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাত্র তিন মাস আগে নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। গতবছরের ডিসেম্বরে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াও। বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের ওপর আরোপিত যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ওই নিষেধাজ্ঞা দুটি এখনো বহাল রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর গত কয়েক মাস ধরে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সরাসরি কার্গো স্ক্যানিংয়ের দায়িত্ব পালন করছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা কোম্পানি রেডলাইন। রেডলাইন কাজ শুরুর তিন মাসের মাথায় জার্মানির এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কেননা নিরাপত্তার ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতি থাকার কারণে ওই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য ।

রোববার জার্মানির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (এলবিএ—লুফৎফার্ট বুন্ডেসাম্ট অথরিটি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পাঠানো পণ্য ও চিঠিপত্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। এ কারণে বাংলাদেশকে উড্ডয়ন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকির দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পাঠানো সকল কার্গো ফ্লাইট অবশ্যই তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দরে রিস্ক্যানিং করা হবে।

জার্মানির এই ঘোষণা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা দেশ থেকে প্রতিবছর জার্মানিতে প্রায় ৫শ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে যার ৯৫ ভাগই তৈরি পোশাক। এসব পণ্যের একটি বড় অংশই যায় আকাশপথে। আর বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি।

দেশের রপ্তানিকারকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রোববার থেকে তারা জার্মানিতে বিমানে করে কোনো পণ্য পাঠাতে পারবেন না। এ কারণেই লুফথানসা ফ্লাইটটি নির্ধারিত ৮০ টন পণ্য (যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক) শাহজালাল বিমোনবন্দরে ফেলে রেখেই দেশে ফিরে গেছে।

লুফথানসা এয়ারলাইন এখন বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে কেবল একটি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং তাদের বহনকৃত পণ্যের সিংহভাগই হবে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে আর কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই।

এ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিককে বলেন, ‘আমি এখনো জার্মান বিশেষজ্ঞদের আগমন সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নীত করেছি। এখনো তারা (যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেুলিয়া ও জার্মান) নিজেরাই নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই করে দেখছে।’

এ সম্পর্কে নিউএজ গার্মেন্টস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেছেন, গার্মেন্টস পণ্যের জন্য জার্মানি আমাদের প্রধান রপ্তানি দেশ। আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতাদের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠানোর জন্য আমাদের শেষ আশ্রয় ছিল আকাশপথ।’

তিনি আরো বলেন,‘আমরা সময়মত পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে আমাদের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী অংশীদার জার্মানকে হারাব। এয়ার শিপমেন্ট বিলম্বের কারণে আমাদের ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই এই সমস্যাটির সমাধানের জন্য সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’ শুধু ব্যবসা ক্ষেত্র নয়, নিরাপত্তার অজুহাতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইমেজ নষ্ট করবে বলেও মনে করছেন জনাব আসিফ।

বাংলাদেশ জার্মনি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিজিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেছেন,‘এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঈদের আগেই আমাদের প্রচুর পণ্য পরিমাণ রপ্তানি করতে হবে। এজন্য সরকারের এই জার্মান নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকে গুরুত্ন সহকারে নেয়া উচিত।’

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জার্মান বিশেষজ্ঞদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে।’