মেইন ম্যেনু

শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি নারীনেত্রীদের

গত বছর বর্ষবরণে নারী লাঞ্ছনার ঘটনা নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র’।

শাজাহান খানের বক্তব্যকে ‘জঘন্য’ উল্লেখ করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বর্ষবরণের আগেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে তাদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার সংস্থাটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ সারা দেশের নারীসমাজ তথা সমগ্র জাতি যখন নারী দিবসের সংগ্রামী ইতিহাস স্মরণ করে নিজেদের মর্যাদা রক্ষার লড়াইকে জোরদার করার শপথে উদ্দীপ্ত, ঠিক তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে দাঁড়িয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বর্ষবরণে ঘটে যাওয়া নারী নিগ্রহকে ‘তেমন কিছু নয় বলে’ এবং ‘এ ধরনের টুকিটাকি ঘটনা ঘটতেই পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ১০ নারীকে সংবর্ধনা দিতে এসে তিনি এই দায়িত্বহীন মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নৌমন্ত্রীর এহেন জঘন্য, ঘৃণ্য উক্তির প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরিকল্পিতভাবে বর্ষবরণে নারী লাঞ্ছনাকারীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রতিবেদন, মন্ত্রী-আমলাদের এ-সংক্রান্ত উক্তিতে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ ৮ মার্চের মতো সংগ্রামী দিনে নৌমন্ত্রীর এই উক্তি আবারও প্রমাণ করল তারা অপরাধীদের পক্ষে।

বিজ্ঞপ্তিতে নেত্রীরা বলেন, আগামী বর্ষবরণের আগেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে এ জঘন্য উক্তি করার জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রীকে সমগ্র নারীসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘সংগ্রামী নারী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ আমাদের বাঙালি জাতির জীবনে বছরের প্রথম দিন। এই পয়লা বৈশাখে অনেক নারী-পুরুষ রাস্তায় থাকে। এই কোটি কোটি মানুষের দেশে ঢাকা শহরে প্রায় দুই কোটি মানুষ থাকে। তার মধ্যে এমন কী ঘটনা ঘটেছে, যা সংবাদ হওয়ার মতো। একটা টুকিটাকি ঘটনা হতেই পারে। এতগুলো মানুষের মধ্যে এটা তেমন কোনো বিষয়ই না।’

দেশের সংগ্রামী ১০ নারীকে সংবর্ধনা দিতে ‘নতুন ধারা’ নামের একটি সংগঠন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।