মেইন ম্যেনু

শামীম ওসমান ঈমানদার ও দ্বীনদার লোকঃ আদালতে মুফতি হান্নান

নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ঈমানদার ও দ্বীনদার লোক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি মুফতি আবদুল হান্নান। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে স্বাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি শামীম ওসমানকে এ আখ্যা দেন। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মিয়াজী মো. শহীদুল ইসলামের আদালতে মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার ৬ আসামির ৩ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তাকে সহায়তা করেন জেলা বারের প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ উর রউফ, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ অর্ধশত আইনজীবী।

মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ আগস্ট। মামলায় ৪৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে মুফতি আবদুল হান্নানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মমিনুল হক, আসামি শওকত হাশেম শকুর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদা বেগম শম্পা ও অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন এবং শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মামলার বাদী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ঘটনার দিন (২০০১ সালের ১৬ জুন রাত) শহরের চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত বর্ণনা আদালতে উপস্থাপন করেন। পরে তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বাদীর উদ্দেশে বলেন, ‘বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই আসামিরা সম্পৃক্ত নয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’ ১৬ জুনের বোমা হামলার মামলায় গতকাল আদালতে উপস্থিত আসামি মুফতি আবদুল হান্নান সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘শামীম ওসমান ঈমানদার ও দ্বীনদার লোক। আমিও একজন ঈমানদার ও দ্বীনদার লোক। একজন ঈমানদার ও দ্বীনদার লোক আরেকজন ঈমানদার ও দ্বীনদার লোককে হত্যার চেষ্টা করতে পারেন না।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৬ জুন আওয়ামী লীগ অফিসে ভয়াবহ বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৬ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এ দুটি মামলায় বাদীসহ ৭ জনকে সাক্ষী করা হলেও চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি বাদীর আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে সম্পূরক চার্জশিটে আগের চার্জশিটভূক্ত আসামি অভিন্ন রেখে শুধুমাত্র সাক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। সম্পূরক চার্জশিটে ৮ জন তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি আরো ৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।