মেইন ম্যেনু

শাহরুখের কাছে মোদির হার

বলিউডের বাদশাহ হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খান। পাশাপাশি এখন তিনি ভারতে ইন্টারনেট দুনিয়ারও জনপ্রিয় বাদশাহ। সম্প্রতি টুইটারে শাহরুখের ফলোয়ার সংখ্যা ১৬ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে শাহরুখ টপকে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার গণ্ডি। টুইটারে মোদির ফলোয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ৮ মিলিয়ন।

বর্তমানে টুইটারে ফ্যান ফলোয়ার-এ ভারতের এক নম্বরে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, তার ফলোয়ার সংখ্যা ১৭.৬ মিলিয়ন। তারপর দ্বিতীয় স্থানে শাহরুখ খান।

২০১০ সালে সামাজিক যোগাযোগে টুইটার ব্যবহার শুরু করেন শাহরুখ। আর এরপর থেকে ফ্যানদের সঙ্গে শাহরুখের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে টুইটার। প্রায় প্রতিদিনের খুঁটিনাটি কিছু না কিছু আপডেট করতে থাকেন।

সম্প্রতি ভারতে অসহিষ্ণুতা প্রশ্নে শাহরুখ মুখ খোলায় কেন তার বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমেছিল বিজেপি ও সংঘ পরিবার, তার প্রমাণ হচ্ছে শাহরুখের জনপ্রিয়তা। আর এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কলকাতার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম।

পত্রিকাটি জানায়, ভারতে দেশজোড়া অসহিষ্ণুতা নিয়ে ৫০তম জন্মদিনের দিন মুখ খোলেন শাহরুখ। তিনি বলেছিলেন, দেশ এখন অসহিষ্ণুতার চরমে। শিল্প যে কোনো জাত, ধর্মের বেড়াজালে আটকে থাকতে পারে না এবং তা যদি হয় তবে দেশ যে প্রতি পদক্ষেপে পিছিয়ে যাচ্ছে- এ কতা দ্বর্থ্যহীনভাষায় জানিয়েছিলেন তিনি। আর তাতেই রাতারাতি আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে ওঠেন শাহরুখ।

সংঘ পরিবারের সাধ্বী প্রাচী তাকে ‘পাকিস্তানি এজেন্ট’ বলেই অভিহিত করেন। বিজেপির তরফ থেকেও ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় তাকে। সংঘ ও বিজেপির সদস্যরা ভালোই জানেন, জনপ্রিয়তার নিরিখে শাহরুখের অবস্থান ঠিক কোথায়। আর তাই আক্রমণ করে শাহরুখকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিল তারা।

তবে এখন টুইটারে শাহরুখের ফলোয়ারের সংখ্যা জানিয়ে দিল, তাদের সে আক্রমণ বুমেরাংই হয়েছে। শাহরুখের জনপ্রিয়তা বেড়েছে আরো। এমনকি নায়ক হিসেবে তাকে যারা পছন্দ করেন না, তারাও সমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছেন তার প্রতি। কেননা শাহরুখের মতো হাই প্রোফাইল মানুষকে যখন মন্তব্য করার কারণে এরকম আক্রমণের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কোন অবস্থায় আছে তা সহজেই অনুমেয়।

তাছাড়া বলিউডের নায়ক নায়িকাদের অনেকেই যখন শুধু সেলফি সর্বস্ব জীবন কাটাচ্ছেন, তখন শাহরুখ যে সামাজিকতার পরিচয় দিয়েছে, তাও অনেকের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে। অনেকে তার বিরুদ্ধে প্রচারসর্বস্বতার অভিযোগ তুলেছেন, তবে শাহরুখের অতীত কাজও প্রমাণ করে দিয়েছে প্রচারের জন্য তাকে অন্তত অসহিষ্ণুতা নিয়ে মন্তব্য করতে হবে না। হিপোক্র্যাসিকে তিনি যে প্রশ্রয় দেন না, তা শাহরুখের জীবনের নানা ঘটনায় স্পষ্ট। আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তির স্বপক্ষে মুখ খুলে শিবসেনার বিরাগভাজন হয়েছিলেন। কিন্তু তাও গোঁড়ামিকে সমর্থন করেননি। কিংবা কৌশলে চুপ থাকার পন্থাও নেননি।

ব্যক্তিজীবনে হিন্দু ধর্মের রমণীকে বিয়ে থেকে সন্তানসন্ততির নামেও তিনি যে স্বচ্ছ সংস্কৃতির মডেল তুলে ধরেন, তা তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তারই ফল মিলল টুইটারে। অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খোলায় তার বাড়ির সামনে যখন নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ল, তখন তার টুইটারে ফলোয়ারের সংখ্যাও বাড়ল হু হু করে।

ডিজিটাল মিডিয়ায় সক্রিয় হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী আলোচিত এবং রোল মডেল। ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর তিনি ও তার দলের ভরসাও অনেকখানি। নিজেদের মত প্রকাশে এই মাধ্যমকে তারা ব্যবহারও করেন যথেচ্ছ। সেই ডিজিটাল মিডিয়া কিন্তু দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জনপ্রিয়তার নিরিখে অন্তত শাহরুখের কাছে তার হারই হয়েছে। এখনও যদি তার দলের সদস্যরা শাহরুখকে আক্রমণে লাগাম না টানেন তবে ভবিষ্যতে যে ডিজিটাল মিডিয়া আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেবে তার আভাস হয়ত এখনই পাওয়া যাচ্ছে।