মেইন ম্যেনু

শিকলবন্দি থেকে মুক্তি পেলেন শরাফত

অবশেষে শিকলবন্দি থেকে ৯ দিন পর মুক্তি পেলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ শরাফত।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামছুনাহার ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবদিনের নির্দেশে শনিবার রাতে শরাফত উল্লাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে পুলিশ। ওই সময় শরাফত উল্লার ছেলে মহসিনকেও নিয়ে আসা হয়।

শিকলবন্দি থেকে মুক্ত পাওয়ার পর শরাফত উল্লা বলেন, ‘আমি এখন অনেক ভালো আছি। অনেক দিন পর শিকলবন্দি থেকে মুক্ত হতে পেরেছি।’

এলাকাবাসী জানান, শরাফত উল্লার সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে তার স্ত্রী ও ছেলের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে কয়েক মাস আগে মহসিন হোসেন তার বাবাকে মারধর করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে শরাফত ছেলে মহসিনের ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলে। এর পর থেকেই শুরু হয় বাবা-ছেলের লড়াই। শরাফত উল্লার ছয় ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মহসিন পঞ্চম। বাকি ছেলেরা ঢাকায় থাকেন।

উপজেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান সউদ বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশ উদ্যোগী হওয়ায় শরাফত উল্লা শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন।’

ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম জানান, নির্দেশনা পেয়ে শাশিয়ালী গ্রাম থেকে শরাফত উল্লাকে শিকলবন্দি থেকে মুক্ত করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই সময় শরাফত উল্লার ছেলে মহসিনকেও থানায় নিয়ে আসার কথা জানান তিনি।

জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাশিয়ালী গ্রাম। এই গ্রামে শরাফত উল্লার বাড়ি। নিজ বাড়িতেই তাকে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে তালা লাগিয়ে রেখেছিলেন তার ছেলে মহসিন হোসেন। ‘পাগল’ সাব্যস্ত করে ৩১ জুলাই থেকে শরাফত উল্লাকে এভাবে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন ছেলে মহসিন হোসেন (৩৫)।