মেইন ম্যেনু

শিক্ষককে অপদস্ত: ক্ষমাহীন অপরাধ করেছেন সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জে একজন সংসদ সদস্য যেভাবে শিক্ষককে জনসম্মুখে অপমান (কান ধরিয়ে উঠ-বস) করেছেন, তা ক্ষমাহীন অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার (১৮ মে) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক আলোচনা সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাসিম বলেন, ‘আমরা ব্যথিত হয়েছি, নারায়ণগঞ্জে একজন শিক্ষককে যেভাবে জনগণের সামনে অপমান করা হয়েছে। এটা কোনো সমর্থনযোগ্য ব্যাপার না। কেউ যদি অপরাধ করে আইন তো আছে, সে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু একটি অজুহাতকে কেন্দ্র করে একজন সংসদ সদস্য যেভাবে জনগণের সামনে তাকে হেনস্তা করেছে তা ক্ষমাহীন অপরাধ। ১৪ দল মনে করে আইন অনুযায়ী যে-ই হোক বা যারা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।’

‘আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব এই ঘটনার জন্য আরো কী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যায় তা গ্রহণ করার জন্য। কারণ আমরা চাই না আমাদের দেশের কোনো ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, তাকে যেন এই ধরনের অপমানের স্বীকার আর না হতে হয়।’

শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল করা উচিত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি পারলামেন্টেরিয়াল ব্যাপার। তবে আমি মনে করি, যে এই কাজটি করেছে, একজন সংসদ সদস্য হয়ে সে তার নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে পারেনি।’

নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিএনপির এক নেতা (আসলাম চৌধুরী) পৃথিবীর সব থেকে কুখ্যাত, জঘন্যতম গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে বৈঠক করেছে বলেও মন্তব্য করেন ১৪ দলের এ মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ‘যে ইসরাইল লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে যাচ্ছে, মুসলমানদের হত্যা করছে, যাদের সাথে আমাদের কোনো ধরনের কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই, সে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে বৈঠক করেছে বিএনপির এক নেতা। আর বিএনপি তাকে প্রকাশ্যে ও নগ্নভাবে সমর্থন করছে। পত্রিকায় দেখিছি বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছে তাকে না কি সরকার ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেপ্তার করেছে।

‘আমরা বিস্মিত হব না যদি না বেরিয়ে আসে মোসাদেরাই পরামর্শ দিয়েছিল এই জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি করার জন্য।’

২৪ মে সারাদেশে ১৪ দলের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি আরো বলেন, ওইদিন (২৪ মে) জেলায় জেলায় সমাবেশ করা হবে এবং চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ১৪ দলের জাতীয় ও কেন্দ্রীয় নেত্রিবৃন্দের উপস্থিতিতে মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরিবর্তীতে গ্রাম পর্যায়েও দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।