মেইন ম্যেনু

শিক্ষকের থাপ্পড়ে ২৭ ঘণ্টা অজ্ঞান স্কুলছাত্র

পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে জিন্নাত শেখ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে চড়-থাপ্পড় মেরে অজ্ঞান করা হয়েছে বলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের নাম অরুণ কৃষ্ণ কর্মকার। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দুপুর দেড়টার দিকে জ্ঞান হারায়। এরপর প্রায় ২৭ ঘণ্টা সংজ্ঞাহীন থাকার পর গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তাকে খুলনা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জিন্নাত শেখ পিরোজপুর আদর্শপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ছাত্রের অবস্থা এখনো স্বাভাবিক নয়। কিছু মেডিক্যাল রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকরা কিছুই বলতে পারছেন না। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই শিক্ষকের পক্ষে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে। জিন্নাতের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দিচ্ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জিন্নাত শেখ। এ সময় বিদ্যালয়ের ইংরেজি ও ভূগোল বিষয়ের সহকারী শিক্ষক অরুণ কৃষ্ণ কর্মকার ‘দুষ্টুমির’ অভিযোগে তাকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর ওই ছাত্র অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে। পরে তাকে বাসায় পাঠানো হলে দুপুর দেড়টার দিকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে প্রথমে দ্রুত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ও জ্ঞান না ফিরলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় প্রেরণ করা হয়। পরে তাকে খুলনা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জ্ঞান ফিরে আসে তার। তবে তার স্বাভাবিক অবস্থা তখনো ফেরেনি। জ্ঞান ফিরলেও বমি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই ছাত্র প্রফেসর ড. হালিম সরদারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের সপ্তম তলায় ১২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন।

ওই ছাত্রের বাবা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে বিষয়টি কাউকে না জানাতে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম সরদার উল্টো ছেলেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি রফাদফা করতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী মজিবুর রহমান ১৫ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন। এ ছাড়া শিক্ষক অরুণ কৃষ্ণ কর্মকারের পক্ষে প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

ওই ছাত্রের মা জোছনা বেগম প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমার ছেলে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। সন্তান এভাবে নিথর পড়ে থাকলে মায়ের কেমন লাগে আপনারাই বলেন। ছেলে যদি দুষ্টামি করে থাকে তাহলে ওই শিক্ষক তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিতে পরতেন। কিন্তু কেন এভাবে আমার ছেলেকে আঘাত করলেন?’ তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘এ ঘটনা সাংবাদিকরা কেন জানল? কে জানাল, এই কথা বলে ওই শিক্ষকের পক্ষে কিছু লোক আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা সাংবাদিকদের ডাকিনি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অরুণ কৃষ্ণ কর্মকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। ফলে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ডিইও) খন্দকার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘সরকার আইন করে ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়া নিষেধ করে দিয়েছে। সুতরাং ওই শিক্ষক যদি এ ধরনের কাজ করে থাকেন তবে ঠিক করেননি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ওই ছাত্রের পরিবার অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সৌজন্যে: কালেরকন্ঠ