মেইন ম্যেনু

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সরকার বিচলিত

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বসে বাধ্য করার ঘটনায় সরকার বিচলিত বলে উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কথায়।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় স্থানীয় সাংসদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না- হাইকোর্টের এমন রুল জারি ও এ ঘটনায় কিছু করার নেই- নারায়ণগঞ্জ পুলিশের এমন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষককেই অসম্মান করা উচিৎ নয়। এ ঘটনায় আমরা বিচলিত।

বুধবার বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মালিতে ঝড়ের কবলে পড়ে নিহত দুই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ও স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে শ্যামল কান্তি নামে ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার আগে ওই শিক্ষককে জনসম্মুখে কান ধরে উঠবস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তরুণ প্রজন্মের অনেকে নিজের কান ধরে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

শ্যামল কান্তি নির্দোষ হলে আইন তার সঙ্গে থাকবে বলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন আইনমন্ত্রী। এরপর আজ হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশ্যই ধরা হবে। অপরাধ যেই করুক তাদের আইনের আওতার নিয়ে আসা হবে।

দেশব্যাপী আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিআইডির উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা জানি তার কী করতে পারে। তারা করে দেখিয়েছে।

তনুর প্রথম ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়া গেলেও ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজনের ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

বিএনপি নেতা আসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মামলা হয়েছে কি না সে খবর এখনো পাইনি।