মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগের হামলার প্রতিক্রিয়ায় জাফর ইকবাল

‘শিক্ষক হিসেবে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত ও হতবাক হয়েছেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। বলেছেন, ‘আজকে যারা আমাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা করলো তারা যদি আমার ছাত্র হয়, তাহলে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিৎ। আমি তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছি। যারা একটু একটু করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে তাদেরকেই পেটানোর দৃশ্য আমাকে দেখতে হল। আজ যা ঘটল আমি আমার জীবনে এমনটা কখনো কল্পানাও করিনি।’

রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের। কিন্তু তাদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিতে সকাল ৬টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অপর দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরাও তাদের কর্মসূচি পালন করেত ক্যম্পাসে অবস্থান নেয়।

সকাল ৮টায় ভিসি তার কার্যালয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভিসিকে তার কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়। এসময় ইয়াসমিন হকসহ আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভিসিকে ঘিরে টানাহেচড়া করেন। এরপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এসে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এদিকে, ছাত্রলীগের হামলায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকসহ ৭ শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র আহবায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল ইসলাম।

ছাত্রলীগের হামলার পরপরই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। লজ্জায়, অপমানে, ঘৃণায় আর অভিমানে নির্বাক জাফর ইকবাল তখন বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা গেছে।

হামলার পরে এক প্রতিক্রিয়ায় ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন হামলা ন্যাক্করজনক। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালিয়ে জয় বাংলা স্লোগানকেই অপমান করেছে। এমন ন্যাক্করজনক হামলায় আমি স্তম্ভিত, হতবাক।’

উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‌‘উপাচার্য যদি মনে করেন এভাবে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে তাহলে তিনি ভুল করেছেন। এতে আন্দোলন বন্ধ হবে না।’

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‌শিক্ষকরা মিথ্যাবাদী উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করছেন আমি তা পূর্ণভাবে সমর্থন করি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবারই আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। আমি নিজেও এক সময় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলন করেছি।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। পর থেকে শিক্ষকদের বাধায় কোন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভা করতে পারেননি উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া।

কিন্তু রোববার বিকালে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভার আহ্বান করেন শাবি উপাচার্য আমিনুল হক ভুঁইয়া। এর প্রতিবাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’।