মেইন ম্যেনু

শিক্ষার্থীর ফুল ফিরিয়ে দিল পুলিশ

সংঘাত-অবহেলা নয়, পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তোলার প্রতীক হিসেবে এখনকার আন্দোলনগুলোতে পুলিশকে ফুল দিতে দেখা যায় প্রায়ই। সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশকে ফুল দিয়ে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এছাড়াও পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন সময়ে ফুল বিনিময় করতে দেখা যায়। এসব খবর গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারও হয়। এসব খবরেই মানুষের মনে আশা জাগে; এমনটাইতো চাই আমরা।

এবার ঈদে গাড়ি চালকদের ফুল দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানিকগঞ্জ পুলিশও। কিন্তু আজ কচিমনা শিক্ষার্থীদের ফুলই ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর শাহবাগে আজ সোমবার দুপুরে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী অবস্থান শেষে পুলিশকে শুভেচ্ছা স্বরূপ ফুল দিতে গেলে পুলিশ সে ফুল গ্রহণ করেনি।

এতে অবশ্য অভিভাবকদের অনেকেই কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পুলিশ এটা না করলেও পারতো। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনতো তাদের বিরুদ্ধে না!’

তার আগে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে শাহবাগের উদ্দেশে মৌন মিছিল নিয়ে আসে। তারা শাহবাগ চৌরাস্তার মোড় দখল করে অবস্থান নিতে গেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর (ডিএমপি) রমনা জোনের এসি (পেট্রোল) ইমানুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে বাধা দেয় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মৃদু ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশি বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগ জাদুঘরের সামনের রাস্তার মাঝখানের লেনে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস, পড়ব কেন বারো মাস’, ‘সুচিকিৎসা কি যাবে ঘরে, প্রশ্ন পেলে বাজারদরে?’, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে; দেশ যাবে রসাতলে’, ‘মেডিকেলে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে নিতে হবে’ এমন নানা স্লোগান দেয়। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্লাকার্ড দেখা যায়।

বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে চলে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতার আহ্বান জানানো হয় পুলিশ সদস্যদের। এসময় শিক্ষার্থীরা হাতে হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়ান রমনা জোনের এসি পেট্রোল ইমানুল হকের সামনে। ফুল দেখে অনেকটা আঁকতে উঠেন তিনি। সরাসরি ফুল নিতে অপরাগতা জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। শিক্ষার্থীরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে এবং তার টিমের কোনো পুলিশকে ফুল গছাতে পারেন নি।