মেইন ম্যেনু

শিগগিরই নিয়োগ জটিলতা কাটছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নিয়োগে নতুন বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সৃষ্টি করা হয়েছে সিনিয়র শিক্ষকের নতুন পদ। এতে নিয়োগ ও শিক্ষক স্বল্পতা নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে সৃষ্ট জটিলতা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বিধি অনুযায়ী এখন থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পাবেন শিক্ষকরা। এরই মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। এ নিয়োগ হলে মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্র জানায়, নতুন বিধিমালায় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষককে (পাঁচ বছর পর) সিনিয়র হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হবে। এছাড়া ৪৪০ জনকে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ৩৩৩ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হবে।

মাউশির পরিচালক অধ্যাপক মো. এলিয়াছ হোসেন বলেন, সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষক নিয়োগে বিধিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ ছিল। পদোন্নতি জটিলতা ও পদমর্যাদা নিয়েও সঙ্কট সৃষ্টি হয়।

‘এসব সমস্যা নিরসনে সম্প্রতি একটি নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করা হয়, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ভেটিংয়ের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি এসআরও (সার্ভিস রুল অর্ডার) জারি করবে।’

এরই মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন শুধু ‘এসআরও’ নম্বর জারির মা্ধ্যমে আইন মন্ত্রণালয় একটি গেজেট প্রকাশ করবে। এরপর থেকে পিএসসি সেটি অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে।

চলতি মাস থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মনে করেন মাউশি পরিচালক এলিয়াছ হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদ উন্নীতকরণ জটিলতায় সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ২০১২ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ আছে। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় শিক্ষক সঙ্কট দেখা দিয়েছে ওইসব প্রতিষ্ঠানে।

নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করতে না পারায় চার দফা চাহিদা দিয়েও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত শূন্যপদের সংখ্যা বাড়ছে।

সরকারি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ে পড়াতে হচ্ছে। আবার কখনও বন্ধ রাখতে হচ্ছে ক্লাস। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৩৩৩টি বিদ্যালয়ে ১০ হাজার ১৮০টি পদের মধ্যে দুই হাজার ১০০টি পদ শূন্য। আর ৪৫টি স্কুলে শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। ৪৪২টি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৪৩০টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১৬৯১টি পদ শূন্য।

দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূহী রহমান বলেন, বিধিমালার অভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে এখন বিধিমালা তৈরি হওয়ায় সে জটিলতার অবসান ঘটবে।