মেইন ম্যেনু

শিবির ঠেকাতে চট্টগ্রাম কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি

শিবির নেই চট্টগ্রাম কলেজে। তবুও বোমা ফাটছে প্রতিদিন। এ কারণে আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাই বোমা বিস্ফোরণের মত সকল প্রকার নাশকতা ঠেকাতে চট্টগ্রাম কলেজে এবার বসানো হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিবির আছে কি নাই সেটা বিষয় নয়, নিরাপত্তার স্বার্থেই চট্টগ্রাম কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মতি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ চলছে। কলেজটির প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা রেড বিল্ডিং এর নিচ তলায় ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো বা দুয়েকদিনের মধ্যেই উদ্ধোধন করা হবে এই পুলিশ ফাঁড়ি।

পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, গত বিজয় দিবসে কলেজ থেকে শিবির হটানোর পর কলেজের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ট পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ছাত্রলীগ ৮ দফা দাবি পূরণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়ে আসছিল। এরমধ্যে কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হচ্ছে অন্যতম।

তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ৮ দফা দাবির সবকটি পূরন করলেও এখনো জামায়াত শিবির সমর্থিত শিক্ষকদের অপসারন করেনি। এ দাবি পূরনের জন্য এবার আন্দোলন করবে ছাত্রলীগ।

তিনি বলেন, শিবির কলেজ ক্যাম্পাসে আসার সাহস না করলেও কলেজের আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নানাভাবে হামলা চালাচ্ছে। চকবাজার কলেজ ফটকসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। আর এ কাজে শিবিরকে সহায়তা করছে জামায়াত শিবির সমর্থিত কলেজের শিক্ষকরা।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারে পিকনিক যাওয়ার পথে নগরীর রাহাত্তার পুল এলাকায় ফুলকলির মোড়ে ছাত্রলীগের পিকনিক বাসে ককটেল নিক্ষেপ করে শিবিরের সন্ত্রাসীরা। ভাগ্যজোড়ে কেউ এ ঘটনায় আহত না হলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর এ ঘটনার পেছনে জামায়াত-শিবির সমর্থিত শিক্ষকদের সহযোগিতা রয়েছে।

ফলে ছাত্রলীগ কলেজের নিরাপত্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক কাটাতে চট্টগ্রাম কলেজে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে। আর এই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ছাত্রলীগের বিশেষ অর্জন বলেও মনে করেন মহানগর ছাত্রলীগের এই নেতা।

পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জেসমিন আক্তার বলেন, রেড বিল্ডিং-এর নিচ তলায় চারটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। যা পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হবে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে এ ফাঁড়ি স্থাপনের কাজ চলছে। কলেজের নিরাত্তার স্বার্থেই এটা করতে হয়েছে বলেও জানান কলেজ অধ্যক্ষ।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেন, আসলে এটি নতুন নয়, চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িটিই চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এর সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে পারে। স্থাপনের কাজ শেষ হলে এ সপ্তাহের শেষ বা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে ফাঁড়িটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

ওসি আজিজ আহমেদের বক্তব্য, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসনি কলেজে যে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা থেকে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাকদের নিস্কৃতি দিতেই এ সিদ্ধান্ত। পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাটাও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও মূলত শিবির ঠেকাতে কলেজ ক্যা¤পাসে এই পুলিশ ফাঁড়ি বলে অভিমত সংশ্লিদের। ছাত্রলীগ নেতারাও পরোক্ষ ভাবে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মূলত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছি। তবে হ্যাঁ, দীর্ঘ সময় ধরে কলেজ দুটিতে সন্ত্রাসীদের অরাজকতা চলে আসছে। এ সন্ত্রাসী সংগঠনকে ঠেকাতেও পুলিশ ফাঁড়িটির প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সেই দাবিই জানিয়েছি।