মেইন ম্যেনু

শিরোপা অধরাই থাকল মেসির

বার্সেলোনার মেসি আর আর্জেন্টিনার মেসির মধ্যে পার্থক্য কী? এই প্রশ্নের উত্তর একটি শব্দেই অধিকাংশ বলে দেবেন, সাফল্য। হ্যাঁ, বার্সার জার্সি পরলেই সাফল্যের মালা যেভাবে মেসির পায়ে লুটোপুটি খায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরলে সেভাবেই যেন দৌড়ে পালায়। সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও সেই ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারলেন না মেসি। ফাইনাল আবারও তার কাছে হয়ে থাকল একটা ট্র্যাজেডি হিসেবে।

দুটো ছবিই প্রায় এক হয়ে থাকল। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই মারাকানার বিজয় মঞ্চে এসে পরাজিতের মেডেল গ্রহণ করছেন মেসি। তার পাশেই শোভা পাচ্ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ঠিক এক বছর পর সান্তিয়াগোর এস্টাডিও ন্যাসিওনেলের বিজং মঞ্চে সিলভার মেডেল নিতে এলেন মেসি। পাশেই শোভা পাচ্ছিল লাতিনের সেরা, কোপা আমেরিকার ট্রফি। এত কাছে, তবু কত দুরে। একবারও ওই ট্রফি দুটি ছুঁয়ে দেখার যোগ্য হতে পারলেন না মেসি।

চিলির বিপক্ষে কোপার ফাইনালে খেলতে নামার আগে আর্জেন্টিনার ২২ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর চেয়ে যেন মেসির অন্তত একটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্যটাই ছিল সবচেয়ে বেশি। টানা চারবার বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ফিফা ব্যলন ডি’অর জিতেছেন।

একের পর এক গোল করে ভাঙছেন একের পর এক রেকর্ড। যেন রেকর্ডের বরপুত্র। মেসি যে ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ডগুলোকে কোথায় নিয়ে স্থাপন করেন সেটাই সবচেয়ে বেশি ভাবনার বিষয়। কিন্তু এই ভাবনাটাই এসে ধাক্কা খায় জাতীয় দলের বেলায়। বরাবরের মতই অভিযোগ, আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে কেন যেন মেসি বদলে যান। ঠিক বার্সেলোনার মত নিজেকে চেনাতে পারেন না।

messi2অভিযোগটা আবারও প্রমাণিত হলো। ২৮ বছরে এসেও একটিমাত্র শিরোপার জন্য এমন মাথা কুটে মরতে হচ্ছে তাকে। চিলির বিপক্ষে ফাইনালেই সবাই চেয়েছিল মেসি গোল করুক। তার গোলেই শিরোপা জিতুক আর্জেন্টিনা। তাহলেই সব সমালোচনা সিকেয় উঠে যাবে।

কিন্তু চিলি তাকে এতটাই প্যাকেটবন্দী করে রেখেছিল যে বাধ্য হয়ে মাঝমাঠেরও নীচে নেমে কখনও কখনও খেলতে হয়েছে তাকে। সুতরাং, মেসিময় স্বাভাবিক খেলাটা দেখা গেলো না আর তার কাছ থেকে। গোলও এলো না। আর্জেন্টিনাও জিতলো না। বরং, টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের লটারিতে হেরে শিরোপা অধরাই থাকলো মেসির কাছে।

সেমিফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৬-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। গোল করতে পারেননি মেসি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বললেন, ‘ইশ্বর হয়তো আমার গোলগুলো ফাইনালের জন্যই তুলে রেখেছেন।’ কিন্তু সেটা যে স্রেফ ফাঁকা বুলি ছিল, তা প্রমাণ করে দিল চিলির রক্ষভাগ এবং গোলরক্ষ-অধিনায়ক ক্লদিও ব্রাভো।

আবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মেসি বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে এই একটিমাত্র শিরোপার জন্য প্রয়োজন হলে ক্লাবের সব শিরোপাও সমর্পন করতে পারি। তবুও যে কোন মূল্যে লাতিনের সেরার এই ট্রফিটা জিততে।’ যে কোন মূল্যে- তিনি হয়তো বলেছেন, কিন্তু এটা তো মাঠের খেলা। সেখানেই জিতে নিতে হয়।

২০০৫ সালে অনুর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন মেসি। দেশের হয়ে সাফল্য বলতে ওই একটাই। যদিও সেটা জুনিয়র টিমের হয়ে। সিনিয়র টিমের হয়ে ২০০৬ সাল থেকে ক্যারিয়ার শুরুর পর কেটে গেছে ৯ বছর। এ সময়ে তিনটি কোপা, তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। কোপা (২০০৭+২০১৫) এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনটি ফাইনাল খেলেছেন। কিন্তু প্রতিবারই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে গ্রহের সেরা ফুটবলারকে।