মেইন ম্যেনু

শিশুদের জন্য বারান্দা ও জানালা নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

শিশুরা লাফালাফি করতে পছন্দ করে। এর ফলে তারা প্রায়ই পড়ে যায় ও ব্যথা পায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরের মধ্যেই পড়ে যেয়ে আঘাত পায় শিশুরা। ১ থেকে ৫ বছরের শিশুরা প্রাকৃতিক ভাবেই কৌতূহলী হয় বেশি, কিন্তু তাদের বিপদ উপলব্ধি করার ক্ষমতা কম থাকে। তাই তারা খোলা জানালা থেকে বা অরক্ষিত বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথাও পায় বেশি। গরমকালে দিন ও রাতের বেলায় ঘরের দরজা-জানালা খোলা থাকে। তাই এই সময়ে শিশুর পরিবারের সদস্যদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। অস্ট্রেলিয়াতে গড়ে সপ্তাহে একজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয় জানালা থেকে পড়ে গিয়ে। শিশুর জন্য দরজা-জানালা ও বারান্দা কিভাবে নিরাপদ রাখা যায় সে সম্পর্কে কিছু টিপস জেনে নিই চলুন।

অস্ত্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলসের ‘দ্যা চিলড্রেন হসপিটাল এট ওয়েস্টমেড’ শিশুদের জন্য ঘরের জানালা ও বারান্দা নিরাপদ রাখার জন্য যে পরামর্শ দিয়েছে তা হল :

১। বর্তমানে অনেক আধুনিক বাড়িতে জানালায় গ্রিল দেয়া হয় না। যা ছোট বাচ্চাদের জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এই ধরণের জানালার ক্ষেত্রে জানালা মেঝে থেকে ১২.৫ সেন্টিমিটারের বেশি খুলে রাখবেন না। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে উপরের দিক দিয়ে জানালা খুলুন।

২। বিছানা ও অন্যান্য তৈজসপত্র জানালা থেকে দূরে রাখুন যাতে সে যাতে সে জানালায় উঠতে না পারে।

৩। শিশুকে জানালা থেকে দূরে থাকার বিষয়ে শিক্ষা দিন।

৪। বারান্দার রেলিংগুলো এক মিটার উঁচু করে তৈরি করুন।

৫। রেলিং এর মাঝে ফাঁকগুলো যাতে ১২.৫ সেন্টিমিটারের বেশি না হয় তা লক্ষ্য করুন।

৬। বারান্দার রেলিং এর কাছাকাছি কোন টব বা আসবাব রাখবেন না যাতে শিশু সেগুলো বেয়ে উপরে উঠতে না পারে।

৭। আপনার ঘরে যদি হালকা কোন আসবাব থাকে যা শিশু টেনে নিয়ে যেতে পারবে সেগুলোর বিষয়ে সতর্ক হোন।

৮। বারান্দার সাথের দরজাটি সব সময় বন্ধ রাখুন যাতে শিশু বারান্দায় না যেতে পারে।

৯। বারান্দার রেলিংগুলো ভালো ও মজবুত আছে কিনা তা চেক করুন।

১০। শিশু জানালা বা বারান্দায় গেলে তার প্রতি নজর রাখুন।

১১। সম্ভব হলে জানালা ও বারান্দায় নেট লাগিয়ে দিন।

শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে ব্যথা পাবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার ঘরের ব্যবস্থাপনার জন্যই যদি সে ব্যথা পায় এবং তা মারাত্মক ধরণের হয় তাহলে আপনিই কষ্ট পাবেন বেশি। আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব আপনার নিজের। তাই নিজেই সতর্ক হোন এবং শিশুর জন্য ঘরকে নিরাপদ রাখুন।