মেইন ম্যেনু

শিশুদের মায়ের দুধ পানের হার কমেছে

বাংলাদেশে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের হার আগের বছরগুলোর তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বুকের দুধের পরিবর্তে শিশুদের গুঁড়াদুধ খাওয়ানোর হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুধবার রাজধানীর শহীদ ডা. মিল্টন হলে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের আয়োজনে ‘চাইল্ড নিউট্রিশন ও বিএমএস অ্যাক্ট-২০১৩’শীর্ষক এক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন বক্তারা।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানাবিধ সুপারিশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানকে (আইপিএইচএন) শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছেন তারা।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ড. কাওসার আফসানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডভোকেসি ফর স্যোশাল চেইঞ্জ বিভাগের কর্মসূচি সমন্বয়কারী সদরুল হাসান মজুমদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পিডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইপিএইচএন পরিচালক ডা. এবিএম মাজহারুল ইসলাম ও অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)-এর সভাপতি অধ্যাপক রওশান আরা বেগম।

অনুষ্ঠানে মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প সংক্রান্ত আইন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ)-এর সভাপতি ডা. এস কে রায়। এ বিষয়ে একটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের স্টাফ গবেষক ফাহমিদা আক্তার।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিশু, পুষ্টি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং গণমাধ্যম-কর্মীরা আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য সরকার ও অন্যান্য অংশীদারকে যার যার জায়গা থেকে নিবিড় দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এ আইন ভঙ্গ করার জন্য মামলা করতে হবে এবং অন্যায়কারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আইনটি হিসাবে চিকিৎসকদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তিনি বলেন।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, মায়ের বুকের দুধ পান নিশ্চিত করা হলে বিশ্বে বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী দুই লাখ বিশ হাজার শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও সমাজে অগ্রগতি সমানভাবে আশানুরূপভাবে হচ্ছে না। বাংলাদেশে ২০১১ সালে সদ্যজাত থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৪ শতাংশ যা বর্তমানে ৯ শতাংশ কমে ৫৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আবার গুঁড়া দুধ খাওয়ানোর হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে অনেকটা এগিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন অনেক পিছিয়ে আছে।