মেইন ম্যেনু

শিশুপার্কে ছাতার দীর্ঘ সারি

রাজধানীর মানিকনগরের মোহাম্মদ আলী। বেসরকারি একটি অফিসের কর্মকর্তা। ঈদের পরেরদিন রবিবার দুপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছেন শিশুপার্কে। তখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। দুই মেয়েকে রাইডে তুলে দিয়ে মাথায় ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এ দম্পতি।

মোহাম্মদ আলী বলেন, মেয়েদের ঈদের আগে থেকেই আবদার, তাদের শিশুপার্কে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে।ঈদের দিন বৃষ্টি ছিল। আবার ভীড়ও বেশি হয়। তাই তাদের বলেছিলাম আজকে (রবিবার) শিশুপার্কে নিয়ে আসব। কিন্তু, আজকেও সকাল থেকেই বৃষ্টি।মেয়েদের বলেছিলাম আজ তো বৃষ্টি কাল (সোমবার) আসব। কিন্তু, তারা মানলই না। তাদের আবদার মেটাতেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশুপার্কে এলাম।

সরেজমিনে শিশুপার্কের ভেতরে দেখা যায়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রয় ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে উঠতে শত শত মানুষ সন্তানদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাবা-মায়ের ছাতার নিচে মুখ গুজে রাইডে ওঠার অপেক্ষায় তারা। সন্তানের আবদার মেটাতেই বৃষ্টিতে ভিজে শিশুপার্কের আনন্দধারায় যোগ দিয়েছেন বাবা-মা। তবে, অন্যবার ঈদের ছুটির কারণে শিশুপার্কে অভিভাবক-শিশুদের যে ঢল নামে এবারে বৃষ্টির কারণে তা দেখা যায়নি।

সিটি করপোরেশনের শিশুপার্ক শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গতকাল (শনিবার) ঈদের দিন প্রায় ৩৩ হাজার দর্শনার্থী এসেছিল শিশুপার্কে। কালও বৃষ্টি ছিল, তবে আজকে আরও বেশি। তাই আজকে কম লোক হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের ঈদের ছুটির দিনগুলোতে দিনে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার পর্যন্ত দর্শনার্থী শিশু পার্কে এসেছে। এবার শুরু থেকেই বৃষ্টি। তাই লোকজন কম। এছাড়া বৃষ্টির কারণে রাইডগুলোর অনেক যন্ত্রপাতিও ঠিকভাবে চলে না, নষ্ট হয়ে যায়।

শিশুপার্কের ট্রেন (রাইড) রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অন্য বছর ঈদে যে পরিমাণ লোক আসত আজ তার চার ভাগের এক ভাগও নেই। কীভাবে আসবে বলেন, সকাল থেকেই তো বৃষ্টি। কাল তাও (ঈদের দিন) মানুষ আসার সুযোগ পেয়েছিল, আজ তো বৃষ্টি ছাড়ছেই না।

তিনি বলেন, ট্রেনের রাস্তাটি (পাটাতন) বিদ্যুৎচালিত। তাই বৃষ্টি বেশি হলে ট্রেন চালানো যায় না।