মেইন ম্যেনু

শিশুপার্ক বন্ধ, মন খারাপ শিশুদের

রাজধানীতে শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রের কথা আসলে প্রথমেই আসে শিশুপার্কের। অথচ সেই বিনোদন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে ঈদুল আজহার দিন। তবে, ঈদের পরদিন থেকে যথারীতি খোলা থাকছে শিশুপার্ক।

যদিও ঈদুল ফিতরের দিন খোলা থাকে শিশুপার্ক। তাই ঈদুল আজহায়ও খোলা থাকবে, এই আশায় দুপুর থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ঘুরে যাচ্ছেন শিশুপার্কের গেইট থেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের নিয়ে শিশুপার্কে এসে ব্যর্থ মনোরথে ঘুরে যাচ্ছেন অন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্রের দিকে। কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কে ঢুকছেন দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে।

গাবতলী থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে শিশুপার্কে এসেছেন মাসুদুল আলম। পার্ক বন্ধ শুনেই মহাবিরক্ত এই অভিভাবক। ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘পাঁচশ টাকা অটোরিকসায় খরচ করে বউ-বাচ্চা নিয়ে আসলাম, কিন্তু বাচ্চাটা আনন্দ পাবে না। এইটা কি হয় কন?’

তার অভিমত, কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেই পারে, সেটা তো ভালোভাবে প্রচার দিয়ে জানাতে হবে। কিন্তু মানুষের আগ্রহটার কথা বুঝতে হবে। শিশুপার্কটা এইভাবে বন্ধ রাখাটা ঠিক হয় নাই’।

‘বাবা বাবা পার্কে ঢুকছ না কেন? তাড়াতাড়ি চলো আমরা তো পেছনে পড়ে যাবো।’ শিশুপার্কের সামনের ফুটপাত থেকে ভেতরের আঙ্গিনায় ঢুকতে ঢুকতে সহ্য হচ্ছিল না শিশুটির। কিন্তু বাবা ততক্ষণে জেনে গেছেন পার্ক বন্ধ।

এমন উৎসাহ নিয়ে শিশুপার্কে আসা হাজারো শিশুর মন ভাঙ্গছে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায়। মোহাম্মদপুর থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা হাবিব রহমান কয়েক মাসেও বাচ্চাদের নিয়ে কোনো বিনোদন কেন্দ্রে যেতে পারেন না ব্যস্ততার জন্য। সন্তানদের দীর্ঘদিনের আবদার মেটাতে শিশুপার্কে এসেও ঈদের দিন মন খারাপ করে ফিরে যান তিনি।

শিশুপার্ক বন্ধ থাকলেও পার্কের আঙ্গিনায় থাকা ছোট টঙ দোকানের ব্যবসা ভালই চলছে। খোলা আছে কয়েকটি ফুচকা ও চটপটির দোকান। শহীদুল ইসলাম নামের এক দোকানি জানান, ‘ভিতরে ঢুকতে না পেরে অনেকেই বসে থেকে সময় কাটাচ্ছেন, সঙ্গে আমারদের ব্যবসাও ভালো চলছে’।

পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া সেলিনার পরিবারের সবাই মিলে পার্কের আঙ্গিনার একটি দোকানে ফুচকা খাচ্ছেন। কিন্তু সেলিনা কিছুই খাবে না। কারণ তার শিশুপার্ক ঘোরা হয়নি। আর কবে বাবা নিয়ে আসবে তাই নিয়ে সন্দিহান সে। তাই মন খারাপ তার।