মেইন ম্যেনু

শিশুর বিষণ্ণতার অন্যতম কারণ…

শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের মূল নিয়ামক হচ্ছে সুন্দর একটি শৈশব। কিন্তু সে শৈশবও ছেয়ে থাকতে পারে বিষণ্ণতার কালো মেঘে। নির্মল আনন্দের দিন গুলো হয়ে উঠতে পারে অন্ধকারাচ্ছান্ন। বিষণ্ণতা যেকোনো বয়সের মানুষের জন্যে ক্ষতিকর হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে শিশুমনে এই বিষণ্ণতা ভর করতে পারে। অনেক সময় পরিবারের চাপের কারণেও শিশু বিষণ্ণ হয়ে যেতে পারে। তবে বিশেষ কিছু কারণকে শিশুর বিষণ্ণতার জন্য দায়ি করা যেতে পারে –

বেশি প্রত্যাশা

পরীক্ষায় ভালো না করায় কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশে প্রতি বছরই ঘটে। লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সব জায়গাতেই তীব্র প্রতিযোগিতা ঠেলে তাদেরকে এগিয়ে যেতে হয়। এসব জায়গায় ভালো না করলে মা-বাবা, পরিবার বা সমাজের কটাক্ষ অনেকক্ষেত্রেই ছোটদের খুব চাপে ফেলে দেয়। মাত্রাতিরিক্ত এসব প্রত্যাশার চাপে শিশুরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। আর তখনই বিষণ্ণতা গ্রাস করে। বয়ঃসন্ধিকালে এ অবস্থায় অনেকে এমন চাপ থেকে মুক্তির পথ খোঁজে আত্মহত্যায়।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ সন্তানের জন্য অনেক বড় একটি আঘাত। এই আঘাত তাদের জীবনযাপন, আচার-আচরণ সবকিছুতেই বিরূপ প্রভাব ফেলে। ডিভোর্সি বাবা-মায়ের সন্তানদের অবসাদগ্রস্থ হওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

খেলাধুলা কম করা

শিশুদের সুস্থ জীবনের জন্য খেলাধুলা খুবই দরকার। খেলাধুলা বেড়ে ওঠা, মেধার বিকাশ, শেখার আগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ানোসহ স্বাভাবিক জীবনের জন্য অপরিহার্য অনেক গুণ তৈরিতেই বড় ভূমিকা রাখে। যেসব শিশু খেলাধুলা কম করে তারা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো সমস্যা সমাধানেও বহুক্ষেত্রে কম দক্ষ হয়। বিষয়টি তাদের একসময় হতাশাগ্রস্ত করে আর হতাশা ডেকে আনে বিষাদ।

প্রযুক্তির নেশা

ছোটরা খুব বেশি কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট হাতে পেলে গেম খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অ্যামেরিকান জার্নাল অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলা হয়, যেসব শিশু দিনে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি গেম খেলে, তারা অবসাদগ্রস্তও হয় বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি গেম খেললে শিশুদের মস্তিষ্কের কোষ সংকুচিত হতে শুরু করে।

মিষ্টি খাবার বেশি খাওয়া

ব্রিটিশ মনস্তত্ত্ববিদ ম্যালকম পিট গবেষণা করে দেখেছেন বেশি চিনি, কেক, মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং কার্বোনেটেড পানীয় পান করার অভ্যাসও অনেক সময় শিশুদের অবসাদগ্রস্ত করে। চিনি বেশি খেলে মস্তিষ্কে বৃদ্ধি হরমোনের কার্যক্রমেও সমস্যা তৈরি করে।