মেইন ম্যেনু

শিশুর সুস্থতায় গ্রীষ্মকালীন খাবার

গ্রীষ্ম এলে তাপমাত্রার সঙ্গে বাড়ে ব্যাকটেরিয়ার অত্যাচার। এ সময় শরীরের সুস্থতা ধরে রাখা বেশ কষ্টকর। বিশেষ করে শিশুরা স্পর্শকাতর হওয়ায় ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিং এর প্রকোপ বেশি থাকে। আপনার আদরের সোনামনিকে এ ধরণের রোগ থেকে বাঁচাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। তার নিয়মিত খাবারের প্রতি হতে হবে যথেষ্ট সচেতন।

এই আবহাওয়ায় শিশুদের সুস্থতায় চায় প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার। বাইরের কেনা ফলের রসে থাকা প্রিজারভেটিভ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাড়িতেই করে নিতে পারেন মৌসুমী ফলের রস।

কম বয়সে পানিশূন্যতার কারণে বাচ্চার স্মৃতি, শিখন ক্ষমতা ও চিন্তাভাবনার ক্ষমতায় ক্ষতি হতে পারে। তাই নিশ্চিত করুন আপনার শিশু ঘন ঘন পানি এবং ফলের রস পান করছে কিনা। তবে এড়িয়ে চলুন প্রিজারভেটিভ দেয়া ফলের জুস এবং কোমল পানীয়। লেবু, তরমুজ, বেলের শরবত বা ডাবের পানি পান করাতে পারেন।

পানির জীবাণু দূর করতে ভালো ভাবে সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা করুন। পুষ্টিবিদদের মতে পরিষ্কার পানি পেতে ৩০ মিনিট ফোটানো উচিৎ। স্কুলে পাঠানোর সময় বাচ্চার সঙ্গে বোতল ভরে পানি অথবা স্যালাইন দিয়ে দিন।

দিনের প্রধান তিনটি খাবারে বাড়াতে হবে সহজপাচ্য শাকসবজির পরিমাণ। সবুজ শাকসবজি গরমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বাচ্চার খাবার তালিকায় চিচিঙ্গা, পেঁপে, কুমড়া, লাউ, কাঁচকলা রাখতে পারেন। রান্নায় বৈচিত্র্যের জন্য বিভিন্ন রঙ এর ক্যাপসিকাম ও ব্রকলি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার বাচ্চার শরীরের আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেলায় মাছ, মাংস অথবা ডাল রাখুন।

গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায় নানা রকমের মৌসুমী ফল। আম, জাম, তরমুজ, বাঙ্গি খাওয়াতে পারেন দিনের যেকোনো সময়। এছাড়া স্ট্রবেরি, আপেল, শসা, আঙ্গুর এসব খেলেও বাচ্চার শরীর থাকবে সুস্থ। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চাকে যেন ভিটামিন সি যুক্ত ফল বেশি খাওয়ানো হয়।

গরমে খাবার নষ্ট হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। এসময় শিশুকে একদমই বাসি খাবার দেয়া যাবে না। খাবার ভালভাবে ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে তুলুন। খাবার সংরক্ষণের পাত্র প্লাস্টিক হলে সেটা ফুড গ্রেডেড কিনা যাচাই করে নিতে হবে। স্কুলের টিফিনবক্স এবং পানির বোতল ফুড গ্রেড প্লাস্টিক হওয়াই ভালো।

সন্ধ্যায় বাচ্চার জন্য বিভিন্ন ফল দিয়ে তৈরি করে দিতে পারেন ফ্রুট সালাদ, ফালুদা। দই, সেমাই, ফিরনি, পুডিং এ ধরণের দুগ্ধজাত খাবারও হতে পারে সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে আদর্শ।

ছয় মাসের কম বয়সী বাচ্চাকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ালে চলবে। এই বয়সের বাচ্চারা তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যায় মায়ের বুকের দুধ থেকে। তাই তাকে বাড়তি খাবার বা পানি দেয়ার প্রয়োজন নেই।