মেইন ম্যেনু

শিশু ধর্ষণের সাজা ১০ বেত্রাঘাত!

উত্তরখানের বাক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর দক্ষিণখানে ১১ বছরের এক ষষ্ঠ শ্রেণির কওমি মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম্য সালিসে ওই বৃদ্ধ ধর্ষক বাবুল মিয়া (৫০) নামের এক নরপশুকে সাজা স্বরূপ ১০ বেত্রাঘাত করেছে বিচারকরা । ওই ধর্ষক দক্ষিণখান চালাবনের চালাবনের ৫ নং ওয়ার্ডের ৩৩৯ নম্বর বাসার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

দক্ষিণখান থানাধীন চালাবন মাটির মসজিদ এলাকায় গত বুধবার সকাল ১০ টার সময় বাসা থেকে তার বাবার চায়ের দোকানে যাওয়ার পথে রাস্তার থেকে তুলে মুখ চেপে ধরে তার বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর চিৎকার শুরু করলে আশে পাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে । এ ঘটনায় অত্র এলাকার কমিউনিটি পুলিশ ও আওয়ামীলীগের সভাপতির আমিনুল ইসলাম আমিন ও তার ভাতিজা হিরা আহম্মেদ (চান্দু) গ্রাম্য বিচার সালিসে ধর্ষকে বিচার স্বরূপ ১০ বেত্রাঘাত করা হয়েছে ।

অভিযোগে আরো জানা যায়, উক্ত গ্রাম্য সালিসের জন্য বাবুল মিয়া বিচারকদের ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়েছে । যার ফলে পশ্চায়াতে সবার সামনে বাবুল মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমাণা, ১০ টি বেত্রাঘাত এবং পায়ে ধরিয়ে মাফ চাওয়ানো হয়েছে । যার ১০ হাজার টাকা ওই ছাত্রীর বাবা আহসান কবীরকে দেওয়া হয়েছে এবং জোর পূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর রেখে দিয়েছে বিচারকরা।

ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা আহসান কবীর জানান, গত বুধবার সকালে বাসা থেকে আমার চায়ের দোকানে আসার পথে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক বাবুল মিয়া মেয়ের মুখ চেপে ধরে তার বাসায় নিয়ে যায় । এ সময় মেয়ের সাথে থাকা ছোট ভাই চিৎকার করিলে এবং পাশের রুম থেকে শিশু মেয়েটির চিৎকারের শব্দ শুনে লোকজন তাকে উদ্ধার করে ।

অভিযোগ করে তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে আমিনুল ও তার ভাতিজা পথরোধ করে এর সুষ্ঠ সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন, তা না হলে পরবর্তীতে তাকে সমস্যায় পরতে হবেও বলে তিনি জানান। তারপর শুক্রবার সভাপতি আমিনুলের অফিসে বিচার সালিসে ২০ হাজার টাকা জরিমাণ, ১০ টি বেত্রাঘাত ও মাফ চাওয়ানো হয়েছে । জরিমানার ২০ হাজারের মধ্যে ১০ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে বাকিটা তারা রেখে দিয়েছে ।

উক্ত বিচারক কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ও ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিচারে বাবুলকে কোন বেত্রাঘাত করা হয় নি, তার বড় ভাই সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন তাকে কয়েকটি বেত দিয়ে ভাড়ি দিয়ে মাফ চায়িয়ে নিয়ে গেছে । তাছাড়াও তাকে মামলা করে কোন বাধা দেওয়া হয় নি এবং উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, গরীব মানুষের উপকার করা কি অপরাধ?

ধর্ষক বাবুলের বড় ভাই মোসলেম উদ্দিন জানান, শিশু সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে এলাকার আওয়ামীলীগ নেতারা বিচারের মাধ্যমে সমাধান করে দিয়েছে । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, পূর্বের অপর আরেকটি ধর্ষণের ঘটনায় তাকে গ্রাম্য সালিসে পূর্বেও সাজা দেওয়া হয়েছিল, যার দরুণ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুদির দোকান ছেড়ে দিতে হয়েছিল ।

উল্লেখ্য, এ ছাড়াও গত ছয় মাস পূর্বে মাটির মসজিদ রোডের তার (ধর্ষক বাবুল) মুদির দোকানে অপর আরেক যুবতী মেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে সে। তার সাজা হিসাবে ঐ বিচারকরা তাকে সাজা হিসাবে দোকান ছেড়ে দিতে বলেছিল ।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম অর রশিদ তালুকদার জানান, ঘটনার দিন ভুক্তভোভী পরিবারকে নিয়ে আসার জন্য এক জন এসআইকে পাঠানো হয়েছিল । কিন্তু তারা থানায় আসেনি। পরবর্তীতে এক গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে এর সমাধান হয়েছে।