মেইন ম্যেনু

শিশু শ্রমকে না বলুন

আজ ১২ জুন। বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘শিশু শ্রম নিরসন সনদ ১৮২’ গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘শিশু শ্রমকে না বলুন, মানসম্মত শিক্ষাকে হ্যাঁ বলুন।’

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি ও শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, বর্তমান সরকার শিশুদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে আমরা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও নিরসনবিষয়ক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছি। শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রমবিষয়ক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৩৫ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। শিশু শ্রমিক নিয়ে দেশে আইন থাকলেও কমেনি ঝুঁকি। বন্ধ হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম। এখনও শিশু ঘরে ও বাইরে কলকারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্তোরাঁ, মোটর গ্যারেজ, বাস ও টেম্পো, নির্মাণকাজ, চা বাগান, ট্যানারি, প্লাস্টিক কারখানা, কৃষি ও গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে।

সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব মতে, দেশের মোট শ্রমিকের ১২ শতাংশই শিশু শ্রমিক। কম মজুরি, মাত্রাতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম নিয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় আছে দেশের শিশু শ্রম পরিস্থিতি। শিশুরা এসব কাজে নিয়োজিত থেকে অনেক সময়ই শুধু জীবন ধারণের খোরাকি পেয়ে থাকে ।

এ ছাড়া বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিরসনে ২০১০ সালে একটি নীতিমালা এবং ২০১৩ সালে ‘শিশু আইন ২০১৩’ প্রণনয় করা হয়েছে। সরকার ৩৮টি কাজকে শিশু শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি শিশু শ্রম শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং দেশের ২৩টি জেলা কার্যলয়ের মাধ্যমে শিশু শ্রম মনিটারিং জোরদারকরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ১২ কোটি শিশু শ্রমিক রয়েছে। বিশ্ব শিশু শ্রম নিরসন দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আইএলও বাংলাদেশ অফিস, গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট চাইল্ড লেবার বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, সোস্যাল অ্যান্ড ইকোনমিকস ইনহেন্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, সেভ দ্যা চিলড্রেন দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করেছে।