মেইন ম্যেনু

শীতে উচ্ছল তারুণ্য

গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে নগর জীবনেও এসে লেগেছে শীতের হিমেল পরশ। ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে ঋতুর পরিবর্তন মানেই জীবনাচরণ আর পোশাক-আশাকে চলে আসে আমূল পরিবর্তন। ফ্যাশনে পরিবর্তনের শুরুটা তারুণ্যের হাত ধরেই। মূলত এই শ্রেণির কাছ থেকেই ফ্যাশনের নতুন ট্রেন্ড আর জনপ্রিয়তার স্রোতধারা ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। শীতের রুক্ষতা নয়, চাইলে এ সময়েও থাকা যায় উচ্ছল। জানাচ্ছেন- ফেরদৌস আরা

জেঁকে বসা শীতের আসল সৌন্দর্যই হলো প্রকৃতির রহস্যময়তা। হুটহাট সূর্য উঁকি দেয় আবার হুটহাটই কুয়াশার চাদরে মুখ ঢেকে ফেলে প্রকৃতি। অনেকে শীতের পুরনো পোশাকগুলোই আবার নামিয়ে, রোদে দিয়ে শীতের মুখোমুখি হন। আবার অনেকেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেছে নেন পছন্দের শীতের পোশাক। গ্রামের খেজুর রস আর পিঠাপুলির প্রতিদিনের আয়োজন আর শহরের একদিনের পিঠা উৎসব কিংবা হাউসে হাউসে শীতের পোশাকের বাহারি সংগ্রহ- এই তো শীতের চিরন্তন সৌন্দর্য।

শীত থাকে মাত্র দুই মাস, কিংবা আরও কম। তবু এই অল্প সময়ের জন্য নতুন কাপড় সংগ্রহে লাইন লেগে যায়। রঙেঢঙে দারুণ সব শীতের পোশাক দেখলে তো আর নিজেকে ধরে রাখা যায় না। এ দেশে শীত পড়ে কম, তাই বলে শীত-পোশাকের বাহারে কমতি নেই। কম ঠাণ্ডায় পরার উপযোগী করেই বানানো হচ্ছে এ সময়ের শীতের পোশাক। আর ট্রেন্ডও বদলে যাচ্ছে বছর বছর।

যারা ফ্যাশনসচেতন তাদের গ্রীষ্ম শীতের হিসাবটা অন্য রকম। এই শীতে নিজেকে বাহারি পোশাকে সাজানোর পাশাপাশি চাইবেন ঠাণ্ডা থেকেও রেহাই। গরম কাপড় মানেই এখন আর মোটা কাপড় বোঝায় না। তা ছাড়া তরুণরা চান, শীতের কাপড়ে যেন ফ্যাশনটাও হয় ঠিকঠাক। আর তাই তো এখন বাজারে হালকা গরম কাপড়ের কাটছাঁটে বৈচিত্র্যের অভাব নেই।

এ দেশে শীতের প্রকোপ কিন্তু একেবারে কম নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই গা গরম রাখার মতো পোশাকের প্রতিই আমাদের খেয়াল করতে হবে। আর তাই তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় সবার উপরে থাকে ওয়েস্টার্ন পোশাক। এ ক্ষেত্রে ফুলস্লিভ টি-শার্ট, পোলো শার্ট, পাতলা জিনসের শার্টের দিকে নজরটা একটু রাখতেই হবে। ফ্রন্ট হুডি এখন ছেলেদের ফ্যাশনে বেশ বড় জায়গা করে নিয়েছে। আর এ ফ্রন্ট হুডি সোয়েটার বা শার্ট হতে পারে একটু ঢিলেঢালা ধরনের।

ফুলস্লিভ ভি-নেক, রাউন্ড নেক ধরনের বিভিন্ন সোয়েটার রয়েছে বাজারে। এগুলো ছেলেমেয়ে সবার জন্যই সমানভাবে মানানসই। এর সঙ্গে গলায় কালারফুল পাতলা মাফলার আপনার লুকে আনতে পারে অন্যরকম কিছু পরিবর্তন। শীতে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় আরও আছে ব্লেজার। ছেলেরা ব্লেজারে সিঙ্গেল অথবা ডাবল বাটন ট্রাই করতে পারে। ব্লেজারের পেছনেও সিঙ্গেল অথবা ডাবল কাট ট্রাই করা যেতে পারে।

মেয়েরা যারা জিনস পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তারা এর সঙ্গে যোগ করতে পারে সেমি লং বা লং জ্যাকেট। আর সঙ্গে যদি থাকে কালারফুল মাফলার, ব্যাপারটা বেশ জমে। এ ছাড়া নিতে পারে হাল্কা মেকআপ, ঠোঁটে ব্যবহার করতে পারে লিপগ্লস। যদি কেউ সানগ্লাস ব্যবহার করে তবে তা হালকা কালার এবং শেড হলেই ভালো হয় এবং আপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, যদি আপনি মানানসই সানগ্লাস পছন্দ করতে ভুল না করেন।

জ্যাকেট আর ব্লেজারের মিশ্রণে তৈরি নতুন ধরনের শীত পোশাক এখন ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে। পাতলা বা কৃত্রিম চামড়া, কটন, গ্যাবার্ডিন কাপড়ের ব্লেজার বা জ্যাকেট, উলের তৈরি পাতলা নানা রঙের সোয়েটার ইত্যাদি বেশ চলছে এবারের শীতে।

তবে এসব জ্যাকেটে হুডি, বড় আকারের বোতাম, হাতা বা নিচের দিকটায় নানা ধরনের কাটের চল এসেছে। কোনো কোনো জ্যাকেটের সামনের দিকে বোতামের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে চেইন। চাইলে জ্যাকেটের বুক খুলে ভিতরে রঙিন টি-শার্ট পরে বেরোতে পারেন।

আর কটন কাপড়ের প্রিন্ট, অ্যাপলিক করা, চেক, স্ট্রাইপের হাতা ছাড়া ও হাতাওয়ালা ওভেন হুডিস এবার শীতে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।

এসব ওভেন হুডিসে বুকের উপরের একটু অংশ ফাড়া, বিভিন্ন ডিজাইনের বোতাম, কোমরের দিকে বিভিন্ন ধরনের বেল্ট লাগানো ও নিচের দিকটায় নানা ধরনের কাটের বৈচিত্র্য রয়েছে।

এ ছাড়া কটন কাপড়ের বিভিন্ন রঙের স্ট্রাইপের সুয়িট টপসও এবারের শীতে মেয়েদের বেশ পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এগুলো হুডি ও হুডি ছাড়াও হয়ে থাকে।

বসুন্ধরা সিটি, পলওয়েল, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজা, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় পছন্দের ওয়েস্টার্ন শীত পোশাক পেয়ে যাবেন। এ ছাড়া ইয়েলো, ইনফিনিটি, ওয়েসটেকস, ক্যাটস আই আনলিমিটেড, লা-রিভ, অঞ্জন’স, ব্যাঙসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসেও পাবেন। আবার যারা একটু কম বাজেটের মধ্যে কিনতে চান, তারা নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেট, বঙ্গবাজার ইত্যাদি শপিং সেন্টারে যেতে পারেন। দাম এক হাজার টাকার বেশি হবে না।

ডিজাইনের পাশাপাশি দামের ভিন্নতা আছে শীত পোশাকে। তবে বিভিন্ন চামড়ার নকশা করা হুডি জ্যাকেট কেনা যাবে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। হুডি ব্লেজার মিলবে ১ হাজার ৮৫০ থেকে সাড়ে ৪ টাকায়। কটন কাপড়ের জ্যাকেটের দাম পড়বে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। হুডি শার্টগুলো কেনা যাবে ৫০০ থেকে ৭৯০ টাকায়। তা ছাড়া উলের সোয়েটারের দাম পড়বে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর মেয়েদের ওভেন হুডিসগুলোর দাম পড়বে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৮৯৫ টাকা। স্ট্রাইপের সুয়িট টপস কেনা যাবে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।