মেইন ম্যেনু

শীতে ত্বকের যত্নে দামি প্রসাধনী কতটা দরকার?

শীতে ত্বকের বাড়তি যত্ন একটু নিতেই হয়। ছেলে-বুড়ো, তরুণ-তরুণী সবাই এ সময় ত্বকের যত্ন নেয়ার চেষ্টা করেন। দোকানে, শপিংমলে থরে থরে সাজানো থাকে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম, লোশন, ময়েশ্চারাইজার ইত্যাদি।

শীতের অনেকেই নামী-দামি বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী বেছে নিয়ে থাকেন। অত্যন্ত আগ্রহভরে সেগুলো ব্যবহার করে থাকেন ত্বক সচেতন নারী কিংবা পুরুষ। অধিকাংশ লোকেরই ধারণা শীতে ত্বকের যত্নে নামী দামী প্রসাধনী সামগ্রী খুবই দরকার। আসলে সাধারণের এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

শীতে ত্বক আর্দ্রতা হারায় বলেই ত্বক শুষ্ক থাকে। শীতে আবহাওয়ার আর্দ্রতা হ্রাস পায় বলেই বায়ুমন্ডল প্রকৃতি যাবতীয় উৎস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। প্রকৃতির সেই লক্ষের শিকার হয় ত্বক। ত্বক থেকে তাই পানি উবে চলে যায় বায়ুমন্ডলে। কাজেই শীতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ত্বক থেকে পানি উবে বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

এজন্য ত্বকের ওপর এমন একটি আবরণ দিতে হবে যা ত্বক থেকে পানিকে বেরিয়ে যেতে দেবে না কিংবা বাধা প্রদান করবে। ত্বকের সেই যথার্থ আবরণটি হচেছ তৈলাক্ত উপাদান যা ত্বকের গায়ে এমন ভাবে লেগে থাকে যে, ত্বকের ক্ষুদ্রাকৃতির ছিদ্র দিয়ে পানিকে বের হতে দেয়না।

সুতরাং ত্বক থেকে পানিকে বের হতে না দেয়াটাই হচেছ আসল কাজ। ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় অনেক ধরনের প্রসাধন রয়েছে। সবারই কাজ একটা তা হলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। এই কাজটির পাশাপাশি অনেক প্রসাধন ত্বকের বাড়তি যত্ন নিয়ে থাকে। যেমন- কোনো কোনো প্রসাধনে থাকে সানস্ক্রিন, কোনটায় থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো ত্বকের বাড়তি যত্ন নেয়। কিন্তু আর্দ্রতা রক্ষায় তেমন কোন ভূমিকা রাখে না।

তবে প্রায় সব প্রসাধনেরই মূল ভিত্তি বা বেস হচেছ অয়েল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা তেল জাতীয় উপাদান। কাজেই সেগুলোও ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় কিছুটা হলেও কাজ করে থাকে। আবার যে কোনো ক্রিম বা লোশন ব্যবহারে ত্বকের ওপর একটি আবরনের সৃষ্টি হয় যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতির প্রভাব থেকে রক্ষা করে সামান্য সানস্ক্রিনেরও কাজটি করে থাকে।

কিন্তু শীতের কথা আলাদা। এখানে লক্ষ্য হচেছ, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। ত্বকের এই আর্দ্রতা রক্ষায় দামী প্রসাধনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামী প্রসাধনই অধিক কার্যকরী বলে জানিয়েছেন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুুল কবীর।

তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর উপাদান হচেছ গ্লিসারিন ও ভেসিলিন (যা পেট্রোলিয়াম জেলি নামেও পরিচিত )। যেখানে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষার প্রশ্ন আসবে সেখানেই এই দুটি বহুল পরিচিত উপাদান ব্যবহার করা উচিত। আর্দ্রতারোধক যে কোনো প্রসাধন থেকে অধিক সুফল লাভের জন্য ব্যবহারগত কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। অর্থাৎ ব্যবহারের একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মটি হচেছ গোসলের পর কিংবা হাত মুখ ধোয়ার পর পরই ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় প্রসাধনটি ব্যবহার করা উচিত । এতে করে ত্বক ভেজানোর পর ত্বকের মধ্যে যে পানিটুকু শোষিত হয়ে ঢুকে পড়ে তা ত্বকের মধ্যে আটকা পড়ে যায়। ফলে ত্বক বেশি পরিমান পানি ধরে রাখতে সমর্থ হয় এবং ত্বক সজীব থাকে। গ্লিসারিন ও ভেসিলিনের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক তারা গ্লিসারিন ও ভেসিলিন ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। যাদের ত্বক অতিমাত্রায় শুষ্ক হয়ে রোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে তাদের ক্ষেত্রে ল্যাক হাইড্রোলিন কিংবা ১০ শতাংশ ইউরিয়া ক্রিম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যেতে পারে। অনেক সময় গ্লিসারিন ব্যবহারে ত্বক চিটচিট করে, সেক্ষেত্রে গোসলের পর ত্বকে ভেজাভাব থাকা অবস্থায় গ্লিসারিন মেখে কিছুক্ষণ পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে (না ঘষে) বাড়তি গ্লিসারিনটুক তুলে নেয়া যেতে পারে। গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে খুব সহজেই তাকে সুগন্ধযুক্ত করা যেতে পারে।

কাজেই অযথা দামী প্রসাধনের দিকে না ঝুঁকে কার্যকর প্রসাধনকেই বেছে নেয়া উচিত নয় কী?

লেখক : ডা. সজল আশফাক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক