মেইন ম্যেনু

শুক্রবার থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট, কয়েকদিন পর ট্রেন ও লঞ্চের

একদিন পরেই (১১ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আর বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে। তবে ট্রেন ও লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আরো কয়েকদিন পরে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬০টির বেশি রুটে বাসের অগ্রিম টিকিট দেয়া হবে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। বুধবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে।

রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে। বাস-মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ, ১১ সেপ্টেম্বর দেয়া হবে ১৭ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের টিকিট।

হানিফ পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া আছে, তা-ই নেয়া হবে। এর চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হবে না। যদি কেউ বেশি ভাড়া নেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে।

এ ব্যাপারে বিআরটিসির পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল এ আর মোহাম্মাদ পারভেজ মজুমদার জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও মতিঝিল বাস ডিপো থেকে অগ্রিম টিকিট দেয়া শুরু হবে।

অপরদিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি। তবে কেবিন বুকিং শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সদরঘাট নৌ-বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক জয়নাল আবেদিন। গত ঈদের সময় যাত্রীর সার্বিক নিরাপত্তায় যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, এবারও তেমন কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে সারাদেশের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রয় শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া ২৩ থেকে দেয়া হবে ফিরতি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। বরাবরের মত এবারো একজন যাত্রী চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে টিকিট বিক্রয়। টিকিট থাকা সাপেক্ষে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

এছাড়া এবাব ঈদের পূর্বের ৩দিন (২২-২৪ সেপ্টেম্বর) এবং ঈদের পরের ৭দিন (২৭ সেপ্টেম্বর-৩ অক্টোবর) ৫ জোড়া ও ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশালসহ মোট ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বুধবার সকালে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ১০দিন আগে থেকে রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রয় করা হবে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামী ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরবানী ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হতে পারে। ঈদে যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল এবং যাত্রী নিরপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্রয় করা হবে ২০ সেপ্টেম্বরের যাওয়ার অগ্রিম টিকিট। এভাবে ১৬ সেপ্টেম্বর বিক্রয় হবে ২১ সেপ্টেম্বরের টিকিট, ১৭ সেপ্টেম্বর ২২ সেপ্টেম্বরের টিকিট, ১৮ সেপ্টেম্বর ২৩ সেপ্টেম্বরের টিকিট, ১৯ সেপ্টেম্বর বিক্রয় হবে ২৪ সেপ্টেম্বরের টিকিট।

এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেনের ফিরতি টিকিট অগ্রিম বিক্রয় শুরু হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্রয় হবে ১ অক্টোবরের ফিরতি টিকিট। ধারাবাহিকভাবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফিরতি টিকিট অগ্রিম বিক্রয় করা হবে।

মুজিবুল হক আরো বলেন, বর্তমানে রেলের মোট ৮৪৮টি কোচ রয়েছে। ঈদ-পূজাকে সামনে রেখে ১৩৮টি কোচ মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭৮টি ইঞ্জিন চালু রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে আরো ৩০টি ইঞ্জিন মেরামত করা হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এক লাখ ৮০ হাজার টিকেট বিক্রি হয়ে থাকে। ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিন সব ট্রেন মিলিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টিকেট বিক্রি করা হবে।

ঈদের আগে পাঁচ দিন ও ঈদের পরের সাত দিন ‘ঈদ স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসের’ মাধ্যমে বাড়তি সেবা দেয়া হবে। এ সময় অতিরিক্ত কিছু কোচ সংযোজন করা হবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।