মেইন ম্যেনু

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন - ২

শুধু আলমগীরকে নয় তার ছেলেকে ও খুন করার পরিকল্পনা ছিল কবিরুলের

আলমগীর কে হত্যা করার আগের দিন তার ছেলে রুহুল কুদ্দুস কে ও হত্যা করার চেষ্টা করেছিল কবিরুল। ১৯ জুন ভারত থেকে ফেনসিডিল আনার নাম করে কবিরুল কে ডেকে নিয়ে যায় রুহুল কুদ্দুস। রাত ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে একটিু দুরে নির্জন স্থানে নিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলছিল কবিরুল। তার কথায় মনে খটকা লাগে রুহুল কুদ্দুসের । সেখান থেকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার অজু হাতে চলে আসে বাড়িতে।

নিহত আলমগীরের স্ত্রী ফাতেমা জানান, গত দু বছর আগে তার বড় ভাশুর জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্সার আক্্রান্ত হয়ে মারা যায়। জাহাঙ্গীর কে গ্রামের সবাই বড় খোকা নামে ডাকত। জাহাঙ্গীর মারা যাওয়ার পরে তার স্ত্রী জাহানারার সাথে তাদের প্রায়ই সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ লেগেই থাকত। এক পর্যায়ে বছর খানেক আগে জাহানারা বাড়ি ছেড়ে ভারতের বোম্বে চলে যায়।

এতে মহা ক্ষেপে যায় কবিরুল। সে মনে করে তার ছোট চাচার জন্যই তার মা চলে গেছে। আর এর জন্য সে কঠিন বদলা নিবে বলে প্রকাশ্য হুমকি দিতে থাকে। আলমগীরকে সে ছোট আব্বা বলে ডাকতো। ঐ ঘটনার পর সে তার ছোট আব্বার পরিবাবের সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। বাএির মধ্যে রুহুল কুদ্দুস বিয়ে করে কলারোয়া থানার কোমর পুর গ্রামের মোসলেম সরদারের মেয়ে জেসমিন কে।

২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের দিকে কবিরুল চলে যায় ঢাকায়। ইট ভাটায় কাজ করার জন্য। ২০১৫ সালের মে মাসে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি এসে সে তার ছোট আব্বার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। আলমগীরের স্ত্রী জানান, যে কবিরুল ছোট আব্বার নাম শুনতে পারতো না, সে যেন ছোট আব্বার চোখের মনি হয়ে উঠল। তিনি আরো জানান, সে তার ছোট আব্বার সেভ করে দিত। নতুণ লুঙ্গি কিনে দিয়েছিল। মোড়ে নিযে চা খাওয়াতো।তার মনে যে একটা কু মতলব আছে তা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম।

কবিরুল গ্রামের একটি সমিতি থেক ২০ হাজার টাক লোন নিয়েছিল। বোম্বে অবস্থান রত তার মায়ের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছিল। আর বেশ কয়েক মাস ইটের ভাটায় কাজ করার দরুন তার কাছে বেশ কিছু নগদ অর্থ ও ছিল। ঐ সমস্ত টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনির সাথে সে নিজে উপস্থিত থেকে ঐ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আলমগীরের পরিবারের অভিমত।