মেইন ম্যেনু

শুভ জন্মদিন চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুক

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুকের জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তবে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের পর আর কখনোই নিজের জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করেননি এই নায়ক।

এমনকি ছোটবেলা থেকেই তার জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপিত হতো না। কারণ মাত্র আট বছর বয়সে ফারুক তার মা আফজালুন্নেসাকে হারিয়েছেন। মাকে হারানোর পর থেকেই যেন ফারুক জীবন সংগ্রামে পড়ে যান। তাই জন্মদিন নিয়ে কখনোই তার বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না।

আজ জন্মদিনে দুটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে তিনি দুটি ভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হবেন। একটি বৈশাখী টিভির ‘আলাপন’ এবং অন্যটি চ্যানেল আইয়ের ‘তারকা কথন’। ফারুক চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়া বাকিটা সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটাবেন।

ফারুক বলেন, আমার জন্মদিনে দুটি চ্যানেলের নিমন্ত্রণে আমি ঠিকই দুটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। কিন্তু জন্মদিন নিয়ে আমার মাঝে তেমন কোনো বিশেষ অনুভূতি নেই। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে খুব আদর করতেন। আর আগস্টেই আমরা তাকে নির্মমভাবে হারিয়েছি। সেই শোক আজও ভোলার নয়। তাই তার শোকেই কাটে এই মাসটি।

উল্লেখ্য, আকবর হোসেন পাঠান দুলু ওরফে ফারুক ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত `জলছবি` চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আগমন করেন। তার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কবরী অভিনয় করেন। এর পরে তিনি ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত আবার তোরা মানুষ হ, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত আলোর মিছিল দুটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালে সুজন সখি ও লাঠিয়াল দুটি ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সে বছর লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি ভালোবেসে চলচ্চিত্রের মানুষেরা তাকে ‘মিয়াভাই’ বলে ডাকেন।

এরপরে ১৯৭৬ সালে সূর্যগ্রহণ ও নয়নমনি, ১৯৭৮ এ শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস থেকে নির্মিত সারেং বৌ, আমজাদ হোসেন এর গোলাপী এখন ট্রেনে সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বর্তমানে তিনি অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। পাশাপাশি নিজে একটি বেসরকারি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন।