মেইন ম্যেনু

শুরুতেই ‘হোঁচট’ জনপ্রশাসন পদক প্রদানে

২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে জনপ্রশাসন পদক ঘোষণার কথা থাকলেও তা দিতে পারছে না সরকার।

কবে নাগাদ পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হবে তাও বলতে পারছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাই প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতেই হোঁচট খেল পদক প্রদানের বিষয়টি। বহুদিন আলোচিত হওয়ার পর এ বছর পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়।

পুরস্কার ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ (২৩ জুন) বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৮ জুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব/সিনিয়র সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে অনিবার্য কারণবশত ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান সম্ভব না হওয়ায় তা পরবর্তী নিকটতম নির্ধারিত তারিখে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রদান করা হবে।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৃজনশীল কার্যক্রম উৎসাহিত করে কাজের আগ্রহ ও সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরও গতিশীল করতে জনপ্রশাসন পদক চালু করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও ট্রেনিং) সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, ‘পুরস্কার প্রদানের নীতিমালাটি করা হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পদকপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়া জানুয়ারি মাসেই শুরু হওয়ার কথা। তাই এবার আমরা সময় কম পেয়েছি। তাই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’

‘তাড়াহুড়া করে কাজটি করা ঠিক হবে না। এতে প্রশ্ন উঠতে পারে। পুরস্কার দিতে ক্ষেত্র পরিদর্শন করার প্রয়োজন হচ্ছে। পুরস্কার নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না উঠে সে জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছি। এ জন্য পুরস্কার ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, ‘ঈদের পর আমরা বসে একটা সময় নির্ধারণ করব। আশা করি আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করতে পারব।’

২৮ জানুয়ারি ‘জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা, ২০১৫ চূড়ান্ত করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে সাধারণ ও কারিগরি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠ দল ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীতে একটি করে মোট ১২টি পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।

নীতিমালা অনুযায়ী, পুরস্কারের ক্ষেত্র হবে সাধারণ ও কারিগরি বিষয়ক। পদক নীতিমালায় পুরস্কারের প্রকৃতি ও পরিধির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ ও কারিগরি দু’টি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠ দল ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীতে একটি করে মোট ছয়টি পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে পদকপ্রাপ্তরা নামের সঙ্গে পিএএ (পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যাওয়ার্ড) লিখতে পারবেন বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট মানের এক ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ দেওয়া হবে। ব্যক্তি ক্ষেত্রে স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট এবং জনপ্রতি এক লাখ টাকা পাবেন। দলগত অবদানের জন্য স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট ও নগদ সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু পদক ও সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

জেলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে সার্টিফিকেট ও ৫০ হাজার টাকা, দলগতভাবে সার্টিফিকেট ও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বাছাই কমিটি থাকবে। অধিদফতর বা সংস্থা পর্যায়েও থাকবে একটি বাছাই কমিটি। বাছাই কমিটি থাকবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পর্যায়েও। চূড়ান্ত পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে থাকবে একটি জাতীয় কমিটি।