মেইন ম্যেনু

শুল্ক ছাড়াই ট্রানজিট সুবিধা নিচ্ছে ভারত

কোনো রকম ফি বা মাসুল ছাড়াই ‘বিশেষ ট্রানজিট’ সুবিধা নিচ্ছে ভারত। এ সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার সীমান্তের স্থলপথ ব্যবহার করে দেশটি আসাম থেকে ত্রিপুরায় তেল পরিবহনও করেছে। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সম্প্রতি ওই রাজ্য দুটির সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এ সুবিধা দেয়।

বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বারিত (এমওইউ) হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করতে ভারতকে এ বিশেষ ট্রানজিটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে ভারতীয় জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক-লরি উত্তর আসামের বঙ্গাইগাঁও ও মেঘালয় থেকে সিলেটের তামাবিল সীমান্তের ডাউকি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ত্রিপুরায় যাবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার সীমান্ত ব্যবহার করে আসাম থেকে ত্রিপুরায় ১০টি ট্রেইলার ট্রাক প্রবেশ করেছে।

রাজস্ব বোর্ডের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মো. জিয়াউর রহমান খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ‘বিশেষ ট্রানজিট’ সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ভারতের আসাম-ত্রিপুরার কয়েক সপ্তাহের বর্ষণ এবং পাহাড়ধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া ত্রিপুরা রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের আংশিক সড়কপথ ব্যবহার করে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি পরিবহনের জন্য ভারত বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়। ভারতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ৭ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী বিশেষ অনুমোদন দিয়ে রাজস্ব বোর্ডের কাছে কিছু সিদ্ধান্ত পাঠান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ত্রিপুরায় ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিবহনের জন্য ভারতকে বিশেষ ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে কাস্টমস আইন-১৯৬৯ অনুযায়ী ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের ওপর কস্ট সার্ভিসের আদায়যোগ্য ফিগুলো এবং ট্রানজিট পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের ওপর প্রযোজ্য শুল্ককর মওকুফ করা হবে।

এ ছাড়া ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি দাখিলের শর্ত হতে অব্যাহতি দেওয়া হবে ভারতকে। সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার যেসব শুল্ক স্টেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রানজিট পণ্য পরিবাহিত হবে সেসব স্টেশনে ট্রানজিট সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (ফটোকপি) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতকে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নকরণ করতে নির্দেশ এবং বাংলাদেশে থেকে ট্রানজিট পণ্যের পরিবহনের ক্ষেত্রে কাস্টমস নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশের এই অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি ট্রেইলার ট্রাক (১২ দশমিক ১৫ টন ওজনের) এবং ৩০টি এলপিজিবাহী ট্রাকসহ (৭ টন ওজনের) মোট আনুমানিক ১৬০টি ট্রাক বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে সিলেট সীমান্তে অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলার প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সড়কপথ। এ পথ অতিক্রম করে মৌলভীবাজার জেলার চাতলাপুর- কৈলাশ্বর সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে ত্রিপুরা প্রবেশ করবে। ত্রিপুরার জ্বালানি তেল খালাসের পর খালি ট্রাকগুলো আবার একই পথে ফিরে যাবে। এসব যানবাহন সিলড অবস্থায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া করবে।

২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে সড়কপথে ট্রানজিট চালু হয়। সড়কপথে ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই বলে আসছিলেন ভারতের লাভবান হওয়ার বিষয়টি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ এ বিষয়ে বলেন, ট্রানজিটের সুবিধা বাংলাদেশ নয়, ভারতের জন্য। কারণ কলকাতা থেকে আগারতলা যেতে দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হতো। আগারতলা যেতে শিলিগুড়ি, আসাম, মেঘালয়, করিমগঞ্জ হয়ে পাড়ি দিতে হতো ১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পথ। এ জন্য সময় লাগত আট দিন বা ১৯২ ঘণ্টা। ট্রানজিট ব্যবহারে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা পথে যেতে সেই দূরত্ব এক হাজার কিলোমিটার কমে হয়েছে ৫৫৯ কিলোমিটার। চালানটি গেছে ৫১ ঘণ্টায়। তাই এই সুযোগ বাংলাদেশের কোনো কাজে আগেও লাগেনি, সামনেও লাগবে বলে মনে করেন না এই অর্থনীতবিদ।

বর্তমানে ধার্যকৃত প্রতিটনে ট্রানজিট ফি (শুল্ক) ৫৮০ টাকা, যা কমিয়ে ১৩০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে ভারত। এনবি আরের প থেকে প্রতিটন পণ্যের জন্য ট্রানজিট ফি ৫৮০ টাকা (৭ ডলার) নির্ধারণের বিষয়ে বলা হয়, প্রক্রিয়াকরণ বাবদ খরচ ১০, ট্রানশিপমেন্ট বাবদ ২০, স্ক্যানিং ব্যয় ৩০০, মার্চেন্ট ওভারটাইম ৪০, নিরাপত্তা ১০০, পণ্য এসকর্ট ফি ৫০, অটোমেশন ফি ১০ এবং অন্যান্য ফি ধরা হয় ৫০ টাকা। ভারত অবশ্য এই ফি বেশি উল্লেখ করে তা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দেয়। এই নীতিমালা অনুসরণ করা হলে প্রতিটন পণ্যেরেে ত্র ট্রানজিট ফি ২ থেকে ৩ ডলারের বেশি হবে না। খবর দৈনিক আমাদের সময়ের।