মেইন ম্যেনু

শেখ হাসিনাকে প্রতিরোধের ঘোষণা যুক্তরাজ্য বিএনপির

লন্ডনে পাঁচ দিনের সফরে শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চোখের চিকিৎসা ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর জয়ী হওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করতেই ব্যক্তিগত এ সফর করছেন তিনি।

তবে শেখ হাসিনার এ সফর প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি। ‘যেখানে শেখ হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে ইউরোপ এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশসমূহ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লন্ডনে জড়ো হতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, হাসিনার সফরকে প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। প্রতিরোধ কর্মসূচি সফল করতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়াভুক্ত পাঁচটি দেশ থেকে অনেক নেতাকর্মী লন্ডনে পৌঁছেছেন। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই, কাতার ও বাহরাইন এবং মালয়েশিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচি উপলক্ষে লন্ডন পৌঁছেছেন। তারা হিথ্রো বিমানবন্দরে শেখ হাসিনা আসার পর রাস্তায় কালো কাপড় ও হাতে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করবেন।

কর্মসূচি সফল করতে যুক্তরাজ্য বিএনপি কয়েক দিনে তিনটি প্রস্তুতি সভা করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। বুধবার সর্বশেষ সভা হয়।

মালেক জানান, হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে শুরু করে লন্ডনে শেখ হাসিনার প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে কালো পতাকা প্রদর্শন ও তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে ভোট হয়েছে, তা কোনোভাবেই নির্বাচনের পর্যায়ে পড়ে না। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় অনুগত ক্যাডারের মতো ব্যবহার করে গায়ের জোটে একটি প্রহসনের নির্বাচন করে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চেপে বসেছেন। দেশের মানুষ ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব এ নির্বাচন মেনে নেয়নি। কারও কাছে তা গ্রহণযোগ্যতাও পায়নি। বিশ্বে গণতন্ত্রের জন্য অন্যতম উদাহরণ যুক্তরাজ্য। সেই যুক্তরাজ্যে কোনো গায়ের জোরে চেপে বসা অগণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রীকে কেউ দেখতে চায় না। মূলত সে কারণেই আমাদের এ কর্মসূচি।’

যুক্তরাজ্য বিএনপি সূত্র জানায়, কর্মসূচি সফল করতে ১০ হাজার পাউন্ডের একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আগত নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্যও সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মসূচি উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরাও সাধ্যমতো চাঁদা দিচ্ছেন।

কর্মসূচি উপলক্ষে গঠিত অর্থ উপ-কমিটি আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, ‘ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর থাকা-খাওয়ার যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমরা কর্মসূচি সফল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

স্ক্যান্ডিনেভিয়াভুক্ত দেশ নরওয়ে বিএনপির সভাপতি বাদল ভূঁইয়া বলেন, ‘নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেন থেকে এরই মধ্যে শতাধিক নেতা লন্ডনে পৌঁছেছেন।’

কাতার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল হক সাজু জানান, তিনিসহ কাতার বিএনপির আরও ৯ নেতা লন্ডনে পৌঁছেছেন।

ফিনল্যান্ড বিএনপির একাংশের সভাপতি কামরুল হাসান জনি বলেন, ‘প্রতিরোধ কর্মসূচি সফল করতে ফিনল্যান্ড বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখন লন্ডনে।’